অন্ধকারে বি এম ডি সি

বাকী ভাই

দেশের চিকিৎসা সেক্টরে পদে পদে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য অন্য সব দপ্তরের রেকর্ড কে ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন খাতে ডিজিটালাইজেশন দূর্নীতি কমলেও চিকিৎসা খাতে দূর্নীতি তার ছোয়া লাগেনি । ঘুষ/ কমিশন বাণিজ্য নিশ্চিত করতে এমন সব কৌশল আবিস্কার করেছে যা রীতিমত বিস্ময়কর। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল ও এর ব্যতিক্রম নয়। অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেশি বা বিদেশি ডিগ্রীধারি যে কোন ডাক্তারের বাংলাদেশে রুগী দেখতে হলে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে। এই অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশে প্র্যাকটিস বা সেবা প্রদান করা নিষেধ। বিএম ডি সির কর্মকর্তা কর্মচারিদের স্বেচ্ছাচারিতার চরম পরাকাষ্ঠা পার হয়েই ডাক্তার দের সেবা প্রদান করতে হয়। উৎকোচ বা ঘুষ ছাড়া কোন ছাড়পত্র যেখানে ফাইলই নড়ে না। ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে বড় অংকের উৎকোচ দিলেও মেলে চিকিৎসা করার সনদ।

মোহাম্মদ ওমর ফারুক,মতলব, চাদপুরের একজন ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে ০৪-১০-২০১৭ তারিখে বি এম ডি সি থেকে পূর্ণ রেজিষ্ট্রেশন গ্রহণ করেছেন যার নাম্বারঃ অ-৮৪৭৩৩, পরে ধরা পড়ায় গত বছর নভেম্বরে পূর্ণ রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করেছেন । তেমনি ভাবে উল্টো টাও এখানে ঘটে সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করার পরে ও দীর্ঘ আাঠার বছর আগে আবেদন করার পরে শুধুমাত্র ঘুষ না দেওয়ার কারনে পূর্ণ রেজিষ্ট্রেশন পান নি এ রকম ঘটনাও ঘটেছে। ভুক্ত ভোগী চিকিৎসক জানান তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিন বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৯৯ সালে এম বি বি এস পাশ করেন ।এর পর আবেদন করেন চিকিৎসক সনদ এর জন্য কিন্তু অসংখ্য বার রেজিষ্টারের সাথে দেখা করেন । কিন্তু ততকালিন রেজিষ্টার জেড এইচ বাসুনিয়া ফর্ম ফিলাপ করা এবং ব্যাংক ড্রাফট জমা নেবার পরে ও সনদ দেন নি শুধু মাত্র উৎকোচ না দেওয়ার কারনে ।

ভুক্তভোগি চিকিৎসক আরো জানান কাগজ পত্র যাচায় বাছায় করার নাম করে সময় ক্ষেপন করেন বেশ কয়েক বার দেখা করার পরে ও সনদ পান নি, তৎকালিন রেজিষ্টার উক্ত চিকিৎসক এর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সার্টিফিকেট ছুড়ে ফেলে দেন। এ বিষয়ে বর্তমান রেজিষ্টার এর সাথে কথা বলে জানাযায় সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা ডাক্তার দের সনদ জটিলতা হবার কথা না। রেজিষ্টার ভুক্তভোগি ডাক্তার এর সাথে কথা বলতে চান, আমাদের কন্ঠ প্রতিনিধি সকল চিকিৎসা সনদ এর ফটোকপি সরবরাহ করে জানতে চাইলে রেজিষ্টার কোন সন্তোষ জনক জবাব দিতে পারেন নি। সনদ পত্র,আবেদন ও ব্যাংক ড্রাফটের ফটোকপি নিয়ে বিষয় টা খোজ খবর নিয়ে জানাবেন । বাংলাদেশের মত ঘন জনবসতি পূর্ণ দেশে যেখানে একজন ডাক্তার পিছু পনে দুই হাজার রুগী, সেখানে এই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতার কারনে একটা জীবন ধ্বংসের পাশাপাশি। দেশের আপামর জন সাধারন কে চিকিৎসা সেবা থেকে বন্চিত করা কি শুধু মাত্র রেজিষ্টার এর স্বার্থ সামান্য ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য রাষ্ট্রের এতবড় ক্ষতির কারন হতে পারে? দেশ বাসির চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কে দিলো। অভগা জাতির ভ্যাগ্যের পরিবর্তন কবে হবে এই কুটিল অবিবেচক কর্মকর্তাদের চক্র থেকে।

আপনার মতামত লিখুন :