অমর একুশে গ্রন্থমেলা ঈদের পর করতে চায় প্রকাশকরা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

খোন্দকার আব্দুল মান্নান বাবু :
জাতির একটা বিজয় এসেছে। কিন্তু মুক্তি মেলেনি লুকিয়ে থাকা মানুষগুলোর কালো থাবা থেকে।এদের কেউ খোলস পাল্টানো, কেউবা পল্টিবাজ আবার কেউ কেউ ধান্ধাবাজিতে চ্যাম্পিয়ন। এ মুহূর্তে এমনই এক পরিস্থিতি জন্ম নিয়েছে বইমেলা আর বাংলা একাডেমিতে। বলছিলাম অমর একুশে বইমেলা নিয়ে।
জাতির অনেক আশার প্রতীক ছিলো সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন। আর সেই নির্বাচন এবং আসন্ন রমজানের রোজার প্রেক্ষাপটে তৈরি হলো এক জটিল পরিস্থিতির।বাস্তবতা বুঝে ছোট, মাঝারি, বড় প্রকাশকরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেয় যে- তারা এ রাস্ট্রীয় মেলাটি ঈদের পর করবে।একজন মাঝারি প্রকৃতির প্রকাশক হয়ে সার্বিক বিষয়ে লক্ষ্য রাখছিলাম। আস্থা ছিলো বাপুস এবং স্বনামধন্য প্রকাশকদের প্রতি।তারা তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং সুষ্ঠু মেলা আয়োজনের অন্তরায় নিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলা একাডেমির সাথে একাধিক আলোচনা করেছে।কিন্তু প্রকাশকদের স্পষ্ট বার্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফ্যাসিস্ট এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এই দু’টি প্রতিষ্ঠান। এর মূলে রয়েছে বিশাল রহস্য এবং সিন্ডিকেট। আজ একাধিক প্রকাশকদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তারা প্রতিষ্ঠান এবং প্রকাশকদের সাথে এহেনো ঘৃণ্য পরিকল্পনায় মেতেছে। উল্লেখ্য, বর্তমান মহাপরিচালক ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে নানা ভুল সিদ্ধান্ত এবং কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। এতে বাংলা একাডেমির সায়ত্তশাসন সহ নানা বিষয়ে নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। তবুও বিকারগ্রস্থের মত একের পর এক বিতর্কিত কাজের জন্ম দিয়েই যাচ্ছেন।তাঁর এ সিন্ডিকেটে যারা রয়েছেন, তাদের প্রায় প্রত্যেকেই আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। অনেকে নিষিদ্ধ ইসকনের সদস্য। আবার অনেকে প্রতিটি নতুন সরকারের সময় খোলস পরিবর্তনকারী সুবিধাবাদী।আওয়ামী সময়ে এরা ক্ষমতা আর প্রভাব দেখিয়ে প্রচুর সুবিধা নিয়েছে।গত মেলা আয়োজনে তাদের সীমাহীন দূর্ণীতির তথ্য বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে।
একটি নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। যেহেতু এদের অধিকাংশই নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন, স্বাধীনতা বিরোধী এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী –তাই তারা নিখুঁত পরিকল্পনায় নতুন সরকারের প্রথম রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠানটিকে বিতর্কিত করার চূড়ান্ত নীল নকশা পেতে বসেছে। তাদের কাছে প্রকাশকদের দাবি বা ইচ্ছার কোনো মূল্যায়ন নাই। আছে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি উদ্ধার আর নতুন সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার।
আজ সারাদিন প্রকাশকরা বিভিন্নভাবে তাদের পুনরায় বোঝানোর চেষ্টা করেছে। তারপরও সকলকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে নাম সর্বস্ব কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ইচ্ছেমতো স্টল বরাদ্দের লটারির আয়োজন করেছে।এ বিষয়ে বেশ ক’জন সাংবাদিক এবং প্রকাশক একাডেমির একাধিক কর্মকর্তা /কর্মচারীদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে গেছেন।প্রকাশকদের অনেকে একাডেমি এবং উদ্যান অংশ ভিজিটে গিয়ে চরম অব্যবস্থাপনা দেখতে পান।তারা বলেন,দেশের প্রথম এরূপ একটি রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রকাশকদের বাদ দিয়ে সরকারের দু’টি প্রতিষ্ঠান তামাশায় মেতেছেন।এরূপ তামাশায় ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন তাঁর জন্য এক বিশাল অপমানজনক কাজ হবে।সকলের উচিত স্বাধীনতা বিরোধী এবং ফ্যাসিস্টদের এ ধরনের কাজকে প্রতিহত করা।কখনই নতুন সরকারকে সুবিধাবাদিদের দ্বারা কলংকিত করা যাবে না। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একুশে মেলা মুক্তিপাক চক্রান্তকারিদের হাত থেকে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ

বিজ্ঞাপন