আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কে প্রভাব মুক্ত রাখতে হবে

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনতে পিআরবি ও সিআরপিসি অনুসরণ প্রয়োজন

** পুলিশের প্রতি জনআস্হা, পুর্নগঠন ও বাহিনীর মনোবল ফিরিয়ে আনাই নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
** ২০২৪ আগষ্টের পুলিশ হত্যা সহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার কার্যক্রম প্রয়োজন।

——— কামাল চৌধুরী ——–

দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রয়েছে নাজুক।
বিশেষ করে গত ১৭ মাস দেশে ভয়াবহ নৈরাজ্য চালিয়েছে বিগত অন্তবর্তিকালিন সরকারের ছত্রছায়ায় একটি গুষ্টি। এতে জননিরাপত্তা হয়েছে মারাত্মক হুমকি। কথায় কথায় যেখানে সেখানে চলে মব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। যেখানে সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা হতে হয়েছে ইতিহাসের নজিরবিহীন নাজেহাল।
এসব নৈরাজ্যের হাত থেকে রাস্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হতে হয়েছে নানাবিধ ভাবে নাজেহাল। ২০২৪ আগষ্টে পুলিশের প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য প্রাণ দিতে হয়েছে। এমনকি দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীও হতে হয়েছে নানাবিধ হুমকির শিকার।

 

 

এসব সার্বিক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে পড়ে।
এমতাবস্থায় গত ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দল বিএনপি সর্বোচ্চ ভোটে সর্বাধিক আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের কাছে জনগণের অনেক আশাভরসা রয়েছে।
সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের স্হায়ী কমিটির প্রভাবশালী নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। তারেক রহমান সরকার গঠনের আগে ও পরে শ্লোগান দিয়ে চলেছেন ” সবার আগে বাংলাদেশ “।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পরই পুলিশের ওপর জনআস্তা, পূর্ণগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দৃর্শমান পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এমন ঘোষণা সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও। তবে মাঠ পর্যায়ে কাংকিত পরিবর্তন এখনো স্পষ্ট না হওয়ায় জনমনে তৈরী হয়েছে প্রশ্ন, কীভাবে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্হা ফিরবে এবং বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধার হবে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, ভূয়া মামলা এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের কারণে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে জনমনে বিতর্ক তৈরী হয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৪’র ৫ আগষ্টের গনঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে স্হবিরতা দেখা দেয় এবং সদস্যদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্হ হয়। দায়িত্ব পালনে তাদের উপর হামলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সমালোচনার কারনে পুলিশ সদস্যরা এখনো অনেক বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এর মধ্যে সরকার গত ২৪ ফেব্রুয়ারী পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে ( আইজিপি) অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির কে নিয়োগ দিয়েছেন। নবনিযুক্ত আইজিপি মাঠপর্যায়ে পুলিশ বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম গতিশীল করতে চৌকস ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তাঁকে সরকার প্রধান তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জনস্বার্থে সার্বিক ভাবে সক্রিয় সহযোগীতা করবেন। কেননা বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর উপর নির্ভর করে যে কোনো সরকারের সার্বিক ভাবমূর্তি এবং জননিরাপত্তা।
এদিকে বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা মনেকরেন, রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা পুলিশের প্রতি মানুষের আস্হা ফেরানোর প্রধান শর্ত। নিরপেক্ষ ভাবে আইন প্রয়োগ, অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত অভিযোগ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরী। পাশাপাশি ঝুঁকি ভাতা,আবাসন,বিশ্রাম এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বাড়ালে সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে৷
একাধিক অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত উচ্চ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাগন জানান, মুলত বিগত ২০১২ সাল থেকে পুলিশ বাহিনীর মাঠ পর্যায় থেকে উচ্চ পর্যায়ে ভেঙ্গে পড়ে “চেইন অব কমান্ড ” তা পরিপূর্ণতা লাভ করে ২০১৮ সাল থেকে। এর কারন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। এতে একজন এসআই থেকে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা সরকারি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ সৃষ্টি করে। ফলে অনেক বিভাগীয় আদেশ নির্দেশ পালনে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অমনোযোগী হয়ে নিজেকে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ভাবা শুরু করে। এঅবস্হায় অনেক সিনিয়র কর্মকর্তাগন তাদের আনুগত্য পেতে নিজেদের দায়িত্ব কর্তব্য ভুলে গিয়ে নিন্মস্হরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়েতোলেন। এক পর্যায়ে ওরা তাদের উপর অর্পিত রাস্ট্রীয় প্রচলিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। বেমালুম ভুলে যান “পিআরবি ও সিআরপিসি’র কার্যক্রম।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগন নিজেদের সরকারি অফিস কক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করে নিজেদের মতো সাজান। বিশ্রামের নামে তৈরী করেন গোপন কক্ষ। এসব গোপন কক্ষে নানাবিধ নেতিবাচক অনৈতিক অপকর্ম পরিচালিত হতো।
তা-ই পুলিশ বাহিনীর নীন্ম পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পরিপূর্ণ ভাবে ” চেনই অব কমান্ড ” এবং জনআস্হা ফিরিয়ে আনতে হলে “পিআরবি ও সিআরপিসি ” অনুসরণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। একসময় মাঠ পর্যায়ের থানা পুলিশের কার্যক্রম প্রত্যক্ক করতে জোনাল এএসপি, অতিরিক্ত এসপি, এসপি তৎসহ উর্ধতন কর্মকর্তাগন এমন কি ডিআইজি, আইজিপি পর্যন্ত সাপরাইজ ভিজিট করতেন এবং থানার জিডি বইয়ে যথাযথ আইন অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করতেন। আবার চলে যাওয়ার সময় আরেকটি জিডি লিপিবদ্ধের মাধ্যমে চলে যেতেন। এতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশের সার্বিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি পেতো। অনিয়ম কিছু থাকলে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগন ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।
তাদের অভিমত পুলিশের চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হলে পরিপূর্ণ ভাবে ” পিআরবি ও সিআরপিসি ” সহ বিভাগীয় আদেশ অনুসরণ করেই পুলিশ বাহিনীকে পরিচালিত করতে হবে।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, জনআস্হা ফিরিয়ে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মানবাধিকার সন্মত পুলিশিং ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিক জোরদার করা প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ডক্টর মোঃ তৌহিদুল হক বলেন, অতীতে রাজনৈতিক ব্যবহারের কারনে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে এবং জনগণের সঙ্গে দুরত্ব তৈরী হয়েছে।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান,নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুলিশকে আরও জনবান্ধব ও পেশাদার করার কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই পুলিশের প্রতি জনগণের আস্হা ও বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধার সম্ভব। তবে সরকার এঅবস্হায় মাত্র কয়েক দিন হলো দায়িত্ব নিয়েছে। আরো কিছু দিন যাওয়ার পর বুঝা যাবে এসব সার্বিক বিষয় সরকার কতোটুকু আন্তরিক।

লেখক:- সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ

বিজ্ঞাপন