আইন শেখাতে এসিল্যান্ডকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর ই-মেইল বার্তা

তিন বৃদ্ধকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় প্রত্যাহার হওয়া যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) সাইয়েমা হাসানকে আইন পড়ার পরামর্শ দিয়ে ই-মেইলে বার্তা পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী।

শনিবার (২৮ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফুল হক রোকন ওই এসিল্যান্ডের ই-মেইলে এ বার্তা পাঠান।

কোনো নাগরিককে কানধরে ওঠবস করানো যে সম্পূর্ণ বেআইনি তা উল্লেখ করা হয়েছে বার্তায়।

বার্তাটি হুবুহু তুলে ধরা হলো :

‘মাননীয়া, আপনার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে দণ্ডবিধি ধারা ৫৩ অনুযায়ী পাঁচ ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি যে ধরনের কিংবা যত বড় অপরাধই করুক না কেন এই ৫ ধরনের শাস্তির বাইরে অন্য কোনো শাস্তি তাকে দেয়া যাবে না।

সেসকল সাজা হচ্ছে :

প্রথমত : মৃত্যুদণ্ড।

দ্বিতীয়ত : যাবজীবন কারাদণ্ড।

তৃতীয়ত : বাতিল করা হয়েছে।

চতুর্থত :কারাদণ্ড, যা দুই প্রকারের হতে পারে, যথা:- (১) সশ্রম, অর্থাৎ কঠোর শ্রমসহ এবং (২) বিনাশ্রম,

পঞ্চমত : সম্পত্তির বাজেয়াপ্ত।

ষষ্ঠত : অর্থদণ্ড।

ব্যাখ্যা : –

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে, কারাদণ্ড অবশ্যই সশ্রম হবে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫ (৫) এ বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না।’

অতএব বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে কাউকে বেত্রাঘাত বা চাবুকাঘাত, শিরশ্ছেদ বা অঙ্গচ্ছেদ, দীপান্তর কিংবা একঘরেকরণ, নগ্নকরণ, পাথর নিক্ষেপ কিংবা কান ধরে ওঠবস করানো, এ ধরনের অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর শাস্তির কোনো বিধান নেই। বরং এ ধরনের শাস্তি প্রদানও আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কারণ, অপরাধী যত বড় অপরাধই করুক না কেন স্রষ্টার সৃষ্ট মানুষ হিসেবে তার মানবিক মর্যাদা রয়েছে। আর সরকার কতৃক প্রতিষ্ঠিত এখতিয়ারসম্পন্ন ও যোগ্যতাসম্পন্ন আদালত ব্যতীত অন্য কেউ কোনো অপরাধীকেই অপরাধী হিসেবে ঘোষণা ও কোনো প্রকার শাস্তি প্রদানের অধিকার রাখেন না।

উল্লেখ্য, তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে শাস্তি দেয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার সাইয়েমা হাসানকে তার দায়িত্ব থেকে আজ প্রত্যাহার করা হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে মনিরামপুরে মাক্স না পরার দায়ে ২৭ মার্চ সাইয়েমা হাসানের ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। শুধু তাই নয়, কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার পর সাইয়েমা হাসান নিজে ওই চিত্র তার মোবাইলে ধারণ করেন। এই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

আপনার মতামত লিখুন :