সালমা শাওন:
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এ প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদ এবং নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে আটাব কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো অ্যাসোসিয়েশনে প্রশাসক নিয়োগ কার্যকর ফল বয়ে আনেনি। দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসক নিয়োগের ফলে অ্যাসোসিয়েশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। আটাবেও আগে কখনো প্রশাসক নিযুক্ত হয়নি, এবং সাধারণ সদস্যরা এটিকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তারা বলেন, নির্বাচিত কমিটির অধীনেই আটাবের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত এটাই সদস্যদের গণদাবি। সরকারের প্রতি আহ্ববান জানিয়ে তারা বলেন, অবিলম্বে প্রশাসক নিয়োগ বাতিল ও প্রত্যাহার করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট যাত্রীর নাম ও পাসপোর্ট ছাড়াই এয়ার টিকিট ব্লাক করে তা কালোবাজারে বিক্রি করছে। এর ফলে টিকিটের দাম দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়ে সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে । এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু জিএসএ এবং কয়েকটি প্রভাবশালী ট্রাভেল এজেন্সি যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়। তারা বলেন, সরকারের জারি করা পরিপত্র উপেক্ষা করে এই এজেন্সিগুলো এখনো নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্ববান জানান বক্তারা। এছাড়া অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) পরিচালনার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায়, অনেক ওটিএ কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রæত ওটিএ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের সময় গড়ে ওঠা টিকিট সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা জুম্মন চৌধুরী ও সবুজ মুন্সীকে গ্রেফতার করতে হবে এবং তাদের ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।
মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটাব সাধারণ সদস্যদের প্রধান সমন্বয়ক শাহ আলম কবির। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন শরীফুল আলম দিপু, মোশাররফ হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল আলম, মাহমুদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, সুমন, ফয়সাল করিম জনি, ইমাম হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মোজাফ্ফর হোসেন, জসিম হোসেনসহ অন্যান্য সাধারণ সদস্যবৃন্দ।