আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মঞ্চে দেশের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন দেখেন নীলফামারীর দেব স্বারথী তীর্থ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

মোঃ জুয়েল(নীলফামারী):
বাংলাদেশের এক প্রান্তিক উপজেলা থেকে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মঞ্চে দেশের পতাকা তুলে ধরার প্রত্যয় এমনই এক স্বপ্ন লালন করছেন নীলফামারীর কিশোর বিজ্ঞানী দেব স্বারথী তীর্থ। প্রযুক্তি গবেষণায় যার চিন্তাধারা ছাড়িয়ে গেছে বয়সের সীমা। ড্রোন,রকেট ও মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে উদ্ভাবনী গবেষণায় ব্যস্ত এই ক্ষুদে প্রতিভা আজ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কিন্তু অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতায় থমকে গেছে তার অগ্রযাত্রা।
জানা যায়, স্ক্রু-ড্রাইভার, সার্কিট বোর্ড আর খোলা যন্ত্রাংশ, এই নিয়েই তার প্রতিদিনের ব্যস্ততা। খেলনার বদলে প্রযুক্তির খুঁটিনাটি জানতেই যার আগ্রহ। ছোটবেলা থেকেই আবিষ্কারের নেশায় মগ্ন দেব স্বারথী তীর্থ আজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন উদীয়মান গবেষক হিসেবে। ইতোমধ্যেই বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি দেব স্বারথী তীর্থ নির্মাণ করেছেন একটি অত্যাধুনিক মাল্টি-ফাংশনাল ড্রোন।
এই ড্রোনে রয়েছে নজরদারি, অবজেক্ট ট্র্যাকিং, স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশনসহ মিলিটারি গ্রেড অপারেশনের উপযোগী একাধিক ফিচার। ড্রোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেন্সর ব্যবহার কওে নির্দিষ্ট এলাকা স্ক্যান করতে সক্ষম। স্বল্প সময়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও কার্যকর এই প্রযুক্তি। ড্রোন প্রযুক্তির পর এবার তার গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু, রকেট ও মিসাইল সিস্টেম। এবিষয়ে দেব স্বারথী তীথ বলেন,আমার তৈরি মিসাইল সিস্টেম দুইভাবে কাজ করবে, ম্যানুয়ালি ও অটোনোমাসলি। অটোনোমাস সিস্টেমে মিসাইল নিজে থেকেই টার্গেট ডিটেক্ট করে শত্রæপক্ষের রাডার এড়িয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। এই মিসাইল সিস্টেমে সংযোজন করা হয়েছে অবজেক্ট ডিটেকশন অ্যালগরিদম, লো-রাডার সিগনেচার ডিজাইন এবং এভেসিভ ম্যানুভারিং টেকনিক। ফলে শত্রæপক্ষের পাল্টা মিসাইল আক্রমণ থেকেও আত্মরক্ষার সক্ষমতা রাখবে এটি। এছাড়াও ভবিষ্যতে সাবমেরিন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার রূপরেখা প্রস্তুত করছেন দেব স্বারথী তীর্থ। পানির নিচে নজরদারি ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্য নিয়েই এই পরিকল্পনা। এই উদ্ভাবনী গবেষণার স্বীকৃতি মিলেছে জাতীয় পর্যায়ে। একাধিকবার অর্জন করেছেন স্বর্ণপদক। রকেট ও মিসাইল গবেষণায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এবার আমন্ত্রণ পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়া থেকে। তবে প্রতিভার এই অগ্রযাত্রায় বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। এর আগেও মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও অর্থের অভাবে সেই যাত্রা সম্ভব হয়নি। এবার ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও অর্থসংকটে থমকে আছে গবেষণা ও ভ্রমণ। তীর্থের বাবা তাপস কুমার দাস বলেন, আমি ওষুধ কোম্পানিতে মার্কেটিংয়ের চাকরি করি। সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালাই। তবুও ছেলের গবেষণার যন্ত্রপাতি কিনতে চেষ্টা করি। কিন্তু বিদেশে পাঠানোর খরচ বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তীর্থের মা সঞ্চীতা সাহা বলেন, ওর স্বপ্নটাই এখন আমাদের স্বপ্ন। শুধু চাই, টাকার অভাবে যেন ওর মেধা থেমে না যায়।
দেব স্বারথী তীর্থ ২০২৬ সালে জলঢাকা ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর আগে জলঢাকা বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে সে। জলঢাকা ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র নাথ রায় বলেন, দেব স্বারথীর চিন্তাভাবনা তার বয়সের তুলনায় অনেক পরিণত। সঠিক দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে। এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীকে ঘিরে আশাবাদী তার প্রতিবেশীরাও। তারা বলছেন, এলাকার সবাই ওকে নিয়ে গর্ব করে। সরকার বা সমাজ যদি পাশে দাঁড়ায়, ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। যার হাতে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সম্ভাবনা। যার মেধা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ে যেতে পারে নতুন উচ্চতায়। আজ তার প্রয়োজন শুধু সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা। রাষ্ট্র কিংবা সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে দেব স্বারথী তীর্থের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ