আমান উল্লাহ আমানকে ঘিরে কেরানীগঞ্জ–২ আসনে হতাশার ছাপ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement
শাহিন চৌধুরী
১৯৯১ সাল থেকে ২০২৬ এর বিজয়ী আমান উল্লাহ আমান জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর থেকেই ঢাকা–২ (কেরানীগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের গম্ভীরতা ও নীরব হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে একটিই বিষয়—দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতা ও টানা পাঁচবারের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় কেরানীগঞ্জবাসী বঞ্চিত হলো কি না।স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবরণ ও দমন-পীড়ন সহ্য করেও দলের কঠিন সময়ে সক্রিয় থাকা একজন জ্যেষ্ঠ নেতার মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া তাদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত’। অনেকের মতে, কেরানীগঞ্জের রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সাংগঠনিক শক্তির বিবেচনায় এই আসন থেকে মন্ত্রী থাকা উচিত ছিল।আমান উল্লাহর ত্যাগ ও রাজনৈতিক উত্থানের ইতিহাস ১৯৬২ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন আমান উল্লাহ আমান। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০-৯১ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল থেকে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন তিনি।নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পান আমান। পরবর্তীতে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে পুনরায় বিএনপি সরকার গঠন করলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত।ঢাকা–২ (কেরানীগঞ্জ) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করেন তিনি।নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা বনাম দলীয় সিদ্ধান্ত জরিপে জানাযায় কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও প্রত্যাশা ছিল ভিন্ন। এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“কেরানীগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি। এখানে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য একজন মন্ত্রীর প্রয়োজন ছিল।”তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা মনে করছেন, মন্ত্রিসভা গঠন সম্পূর্ণ দলীয় কৌশল ও ভারসাম্যের বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্যেষ্ঠতা, অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব ও দলীয় কৌশল—সবকিছু মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নীরব প্রতীক্ষায় কেরানীগঞ্জবাসী বর্তমানে কেরানীগঞ্জে দৃশ্যমান কোনো প্রকাশ্য অসন্তোষ না থাকলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের নীরব প্রত্যাশা কাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে দলীয় পুনর্বিন্যাস বা সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় আমান উল্লাহ আমানের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হতাশা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর।কেরানীগঞ্জ এখন তাকিয়ে আছে—দলীয় সিদ্ধান্তের পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ