আল আরাফাত সার্ভিসেস (প্রাঃ) লিমিটেডের বিরুদ্ধে আউটসোর্সিং-এ জনবল নিয়োগের নামে প্রতারণার অভিযোগ

আমিনুল ইসলাম

আল আরাফাত সার্ভিসেস (প্রাঃ) লিমিটেডের বিরুদ্ধে আউটসোটিং খাতে জনবল নিয়োগের নামে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি অদৃশ্য শক্তির ইশারায় বার বার আউটসোটিং এ জনবল নিয়োগের কাজ পেয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও এমডি’র বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা থেকে যাচ্ছেন ধরা ছোয়ার বাইরে। নিয়োগ বাণিজ্যের নামে দেশজুড়ে দালালচক্র নিয়োগ করেছে এই প্রতিষ্ঠান। এসব দালালচক্র সরকারী চাকরি দেয়ার নামে হাজার হাজার চাকুরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভ’ক্তভোগীরা জানান, সরকারি আধা-সরকারি ও স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের নামে বেকার ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আল আরাফাত সিকিউরিটি সার্ভিসেস (প্রাঃ) লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিষ্ঠানটির অসৎ কর্মকান্ডে সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ ব্যহত হচ্ছে।

প্রতারণার শিকার কয়েক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের কন্ঠকে জানান, আল আরাফাত সার্ভিসেস এর এমডি বেলায়েত হোসেন ২০ লাখ টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এদের বহুমুখি অপকর্মে সরকারের ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রতি বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবু তালেব ও এমডি মোঃ বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে অনৈতিক পথে কার্যদেশ বাগিয়ে নেওয়াসহ অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছে।
জানাগেছে, আল আরাফত সার্ভিসেস (প্রা:) লিমিটেডের মালিক ( চেয়ারম্যান) আবু তালেব ফেনি জেলার পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জনতা ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর বিএনপি নেতা প্রয়াত মেজর (অব:) সাইদ এস্কান্দারের মাধ্যমে বিএনপিতে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে ওই নেতার আর্শীবাদে পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরে পৌর মেয়র হয়ে যান। ২০১৪ সালে পরশুরাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে চেয়ারমান প্রার্থী হয়েছিলেন। এ সময় আল আরাফাত সার্ভিসেস (প্রা:) লিমিটেড নামক কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপি- জামায়াত সরকার আমলে একচেটিয়া ব্যবসাও করেন তিনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা ও ন্যাশকতা মামলার অন্যতম আসামী। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪০টি মামলা চলমান রয়েছে। অপরদিকে আল আরাফাত সার্ভিসেস (প্রা:) লিমিটেডের এমডি মোঃ বেলায়েত হোসেনও বিএনপি জামায়াত সমর্থিত ব্যবসায়ী। তিনিও ১০/১২টি মামলার আসামী। নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলায় তার বাড়ী। ব্যবসায়ী সুবিধা লাভের জন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেন।

মূলত নব্য আওয়ামী লীগ নেতাদের মাধ্যমে প্রভাব সৃষ্টি করে সরকারী, বেসরকারী দপ্তরে আউটসোর্সি কাজ হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রশ্ন উঠেছে , বিএনপি-জামায়াতের প্রডাক্ট প্রতিষ্ঠান আল আরাফাত সার্ভিসেস (প্রা:) লিমিটেডের বর্তমান মহাজোট সরকার আমলেও কিভাবে একটার পর একটা আউট সোর্সি এর কাজ পেয়ে যাচ্ছে। জানাগেছে, গত ১৫ জানুয়ারী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ জাহিদুল হক সরদার আউটসোসিং পদ্ধিতিতে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ড্রাইভার, এমএলএসএস নিয়োগের টেন্ডার আহবান করেন। এ সময় তিনি একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে কাজটি পাইয়ে দেবার জন্য সিডিউলের টেন্ডার ডাটসিট এর সেকশন-২ এ পক্ষপাতমূলক শর্ত জুড়ে দেন। সে সময় অন্যান্য সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানীগুলো পিপিআর-২০০৮ এর নিয়ম অনুসারে পর্যায়ক্রমে উক্ত প্রকল্প পরিচালক, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও সচিব, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর বরাবরে অভিযোগ দাখিল করে।

তাদের সে অভিযোগ সুরহা না করেই গত ১৭ ফেব্রæয়ারি উক্ত প্রকল্প পরিচালক দরপত্র গ্রহন করেন। বাধ্য হয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র সিডিইউলের সকল শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে দর প্রস্তাব দাখিল করে। গত মার্চ থেকে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় যে, মোঃ জাহিদুল হক সরদার, উক্ত প্রকল্প পরিচালক উল্লেখিত টেন্ডারটিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিসেস লি. কে পাইয়ে দেওয়ার জন্য ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহিরুল সিকদার-এর কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করেন।

আপনার মতামত লিখুন :