উধাও মালিক, বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
চট্টগ্রামের ইপিজেডের অধীনের একটি কারখানা পদ্মা ওয়্যারস লিমিটেড। শ্রমিকদের বেতন ভাতা ও চার বছরের প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকা বকেয়া রেখেই উধাও হয়ে যান ওই কারখানার দুই মালিক, বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। এখন পর্যন্ত ওই কারখানার শ্রমিকদের ছুটির টাকাও পরিশোধ হয়নি। এ ঘটনায় আন্দোলনে নেমেছে ওই ফ্যাক্টরিতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। বুধবার (৩ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে জড়ো হয়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ করেন তারা।
পদ্মা ওয়্যারস লিমিটেডের রেহানা নামে শ্রমিক বলেন,আমাদের ছুটির টাকা আর গত মাসের বেতনের টাকা না দিয়েই ফ্যাক্টরি বন্ধ করা দেয়া হয়েছে। এখন আমরা খাবো কি? ঘর ভাড়া দিব কিভাবে? এরমধ্যে চার বছরের প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকাও পাইনি।জানা গেছে,  ফ্যাক্টরিটির ৮৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক মিসেস জাকারিয়া ও ১৫ শতাংশের মালিক সোহাগ নামে এক ব্যক্তি। পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের এবং শেয়ার জালিয়াতির মামলায় ওয়ারেন্ট হওয়ার পরই নিরুদ্দেশ হন মিসেস জাকারিয়া। ফ্যাক্টরিটি সাব-কন্ট্রাক্টে শুধুমাত্র শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য রানিং ছিল। ওই মামলায় জড়িয়ে ওয়ারেন্ট জারি হওয়ায় সর্বশেষ অপর মালিক সোহাগও পালিয়ে যান।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, বেতন-ভাতা বকেয়া রেখে ফ্যাক্টরি বন্ধ হলে আমরা পথে বসে যাব। মালিক পক্ষের সাথে বারবার বৈঠক করেও সুরাহা হয়নি। শেষমেশ না পারতে আন্দোলনে নেমেছি। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নূর মোহাম্মদ মানিক গণমাধ্যমকে জানান, তাদের আন্দোলন অযৌক্তিক। কয়েকদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের চেয়াম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বেপজা’র অধীন। শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বেপজা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বেপজা কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিয়েছেন কারখানা বন্ধ রাখতে। এর মধ্যে মালিকের কোনো সন্ধান না মিললে বেপজা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এবিষয়ে চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (সিইপিডেজ) মহাব্যবস্থাপক মশিউদ্দিন বিন মেজবাহ মিডিয়াকে  বলেন, বর্তমানে ওই দুই ফ্যাক্টরির মালিকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আমি ট্রেস করার চেষ্টা করছি। শ্রমিকদের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে গত তিনদিন ধরে আমরা আলোচনা করছি। তাদেরকে বুঝিয়েছে, মালিকদের না পেলে টাকা পাওয়া সম্ভব না। তারা প্রস্তাব দিয়েছিল আমরা কাজ চালিয়ে মালিক ছাড়া শ্রমিকদের বেতন দিব। আমিও সায় দিয়েছি। কিন্তু পরদিন এসে তারা বলল স্যার লস হলেতো তারা বিপদে পড়ে যাবে। শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবো না।  তারপর আমি পরামর্শ দিলাম— আপনারা লে অফে রাখতে পারেন যদি চান। আর কেউ অন্য জায়গায় চাকরি নিতে চাইলেও আমি নিজে হেল্প করবো। পরবর্তীতে মালিককে পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়া হবে।’—যোগ করেন বেপজার মহাব্যবস্থাপক।
আপনার মতামত লিখুন :