নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের স্টেশন (হাব) রাজেন্দ্রপুরে নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে রবিবার সকালে রাজপথে নামেন স্থানীয়রা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। “গ্রাম বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও” ও “ভিটেমাটি রক্ষায় জীবন দেব” গানে গানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। এতে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী যান চলাচল বন্ধ থাকায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রস্তাবিত স্টেশনটি রাজেন্দ্রপুর এলাকায় স্থাপন করা হলে তেঘরিয়া ইউনিয়নের অন্তত ১৩টি গ্রামের বহু পরিবার জমি হারাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠসহ স্থানীয় অবকাঠামো। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিনাত ফৌজিয়া বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দিলে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।
রাজেন্দ্রপুর বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহবায়ক নুর হোসেন মিয়া বলেন, আমরা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিপক্ষে নই। তবে স্টেশন যেন গ্রামবাসীর সর্বস্ব ধ্বংস করে না বসে। প্রস্তাবিত স্থান থেকে মাত্র এক কিলোমিটার পূর্বে সরিয়ে নিলেই ১৩টি গ্রাম রক্ষা পাবে।

ঢাকা জেলা কৃষকদলের আহবায়ক জুয়েল মোল্লা বলেন, কেরানীগঞ্জের সবচেয়ে বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তেঘরিয়া ইউনিয়ন থেকে। নতুন করে আবারও জমি হারানোর আশঙ্কায় আছি আমরা।
এসময় তারা দাবি জানায়, প্রস্তাবিত স্টেশনটি রাজেন্দ্রপুরে না করে বিকল্প জায়গায় স্থানান্তর করা, গরিব মানুষের ভিটেমাটি রক্ষা করা ও প্রয়োজনে নসরুল হামিদের ‘প্রিয়প্রাঙ্গণ’ প্রকল্পের ভেতর দিয়ে রুট নির্ধারণ করা।
ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে তৎকালিন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তার নিজস্ব আবাসন প্রকল্প ‘প্রিয়প্রাঙ্গণ রক্ষা করতে প্রকল্পের রুট পরিবর্তন করে গরিব মানুষের বসতভিটা বরাদ্দ করান। অথচ ওই প্রকল্পে শত শত একর খালি জমি পড়ে আছে। সেখানে স্টেশন নির্মাণ করলে কারও ক্ষতি হবে না।