এখনই হচ্ছে না ভিপি নুরের রাজনৈতিক দল

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক লাইভে এসে দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের অনাস্থার কথা উল্লেখ করে নিজেই রাজনৈতিক দল গঠন করার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণা বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কিন্তু খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দল গঠন করছেন না ভিপি নুর।

রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা ও পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের সঙ্গে  কথা হলে এসব তথ্য জানা যায়।

ডাকসু ভিপি নুরুল হক  বলেন, ‘স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরেও এদেশের মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি পাইনি। এখনো এদেশের মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান হয়নি। বর্তমান প্রচলিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলো একাধিকবার ক্ষমতায় এলেও তারা কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। বরং তারা ক্ষমতায় এসে লুটপাট চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা মানুষের অধিকার আদায়ের মিছিল থেকে নেতৃত্বে এসেছি। মানুষের ভালোবাসা ও তাদের প্রতি দায়িত্বশীলতা থেকে আমাদের সামনে হাঁটতে হবে। আমি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক দল গঠন করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলাম। তাতেই মানুষের বেশ সাড়া পেয়েছি। আমাদের রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দিতে মানুষ মুখিয়ে আছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

রাজনৈতিক সংগঠন নিয়ে তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন  বলেন, ‘দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে আমরা জন্ম নিয়েছি। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হয়েছে। এছাড়া আমরা ইতোমধ্যে যুব অধিকার পরিষদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ নামে কয়েকটি সংগঠন সৃষ্টি করেছি। এখন আমাদের শুধু রাজনৈতিক সংগঠন বাকি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক সংগঠন করার চিন্তা নিয়েই এগোচ্ছি। আশা করছি, করোনা সংকট কাটার পর বছরখানেকের মধ্যে তা আলোর মুখ দেখবে।’

ভিপি নুর রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিলেও এখনো তার কাঙ্ক্ষিত সংগঠনের নাম ঠিক করতে পারেননি বলে জানা গেছে। নাম নিয়ে তাদের সংগঠন ও অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

ভিপি নুর জানিয়েছেন, যেহেতু আমাদের সকল সংগঠনের মধ্যে ‘অধিকার পরিষদ’ রয়েছে, সেহেতু রাজনৈতিক দল হলেও এসব শব্দ প্রাধান্য দিয়ে নাম করব। এদেশের জনগণের সঙ্গে অধিকার আদায়ের সঙ্গে একাত্ম হয়েই আমাদের রাজনৈতিক সংগঠনের নাম হবে।

কে হবে মুখপাত্র তা-ও এখনো নিশ্চিত নয়

রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এই সংগঠনের মুখপাত্র কে হবেন তা নিশ্চিত করতে পারেননি ভিপি নুর। তবে সুশীল সমাজ, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এসবের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ থাকবে বলে জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।

তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জনপ্রিয় শিক্ষক ভিপি নুর এবং তাদের সংগঠনের কাজে বিভিন্ন প্রোগ্রামে আসছেন। এদের মধ্য থেকে কেউ তাদের মুখপাত্র হতে পারেন।

আবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে তাদের ভালো উঠাবসা আছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসে থাকেন। করোনার সময়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ভিপি নুর ত্রাণ বিতরণ করেছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে তাদের সংগঠনের অন্যতম শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দেখে তাকেও তাদের রাজনৈতিক সংগঠনে ভেড়ানোর কথা বলছেন।

তবে এসব বিষয়ে পরিষ্কার কিছু বলতে পারেননি ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। তিনি বলেন, আমাদের মুখপাত্র কে হবে তা এখনো আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না। তবে সময়ই এটির বাস্তব সমাধান দেবে।

জানা গেছে, ভিপি নুর রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার পর তাদের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা থাকবে। দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ থাকবে। এবং তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম ও শাখা সংগঠনগুলো স্বাধীন থাকবে বলে জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক ও ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

আপনার মতামত লিখুন :