এনসিপি’র সমাবেশ কে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্র

এনসিপি'র সমাবেশ কে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্র
এনসিপি'র সমাবেশ কে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্র
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

নিসা আক্তার দিনা, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র “দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা” কর্মসূচিকে কেন্দ্র সমাবেশ কে কেন্দ্র করে বুধবার (১৬জুলাই) দিন ব্যাপী হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ, নিবার্হী অফিসারের গাড়িতে ভাঙচুর ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

এনসিপি’র নেতা কর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের লোকজন এনসিপি’র ওপর হামলা করেছে এবং পুলিশের সামনে বসেই এই হামলা চালানো হলেও পুলিশ কোন প্রকার বাধা দেয়নি।

এদিন এনসিপি’র ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির জন্য তৈরি করা মঞ্চে পথমে হামলা ও পরে সমাবেশ শেষে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পাশাপাশি সমাবেশ শেষে গাড়ি বহরে ওঠার সময় এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। এসময় নেতৃবৃন্দের গাড়ি বহর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রহরায় গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। এসময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সাথে দফায় দফায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি পুলিশ ও সেনাবাহিনী টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান আমাদের কন্ঠকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা ১৪৪ ধারা জারি করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ১৪৪ ধারা উঠিয়ে নেওয়া হবে।

গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্র হওয়ার সূত্রপাত যেখান থেকেঃ

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র “দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা” দিন তারিখ ঠিক হওয়ার পর বেশ কয়েকদিন ধরে  আওয়ামীলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে গোপালগঞ্জে এনসিপি’র নেতাকর্মীদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল করে ফেসবুকে প্রচার করে।

বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল পোনে ৯টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়নের খাটিয়াগড় এলাকায় পুলিশের টহল গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এঘটনায় পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ জমায়েত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়, এসময় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।

এদিন সকাল ১০ টার দিকে গোপালগঞ্জ সদরের বৌলতলী ইউনিয়নের কংসুর বাসস্ট্যান্ডে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)’র গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান বিষয়টি  আমাদের কন্ঠ কে নিশ্চিত করেন।

কারা হামলা চালিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের লোকজন।

তিনি আরো বলেন, আমরা নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার জন্য ওখানে গিয়েছিলাম। এর আগে পুলিশের গাড়ি পুড়িয়েছে। মূলত, ওইটা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম আমরা সেখানে পুলিশের সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম। ওখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

ওখান থেকে ফেরার পথে তার গাড়ি বহরের ওপর হামলা করা হয় বলে জানান উপজেলা নিবার্হী অফিসার।

হামলার সময় রকিবুল হাসানের সাথে একজন ম্যাজিস্ট্রেটও ছিলেন। কিন্তু তিনি ও ম্যাজিস্ট্রেটের কোনও শারীরিক ক্ষতি না হলেও গাড়ির চালক সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানাগেছে।

অপরদিকে দুপুর সাড়ে ১২ টার  দিকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গোপালগঞ্জ -কোটাপাড়া সড়কে কাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে। এসম গোপালগঞ্জ -কোটাপাড়া সড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে গোপালগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরবর্তীতে দুপুর পৌনে ২টায় গোপালগঞ্জের পৌর পার্কের উন্মুক্ত মঞ্চে এনসিপি’র আয়োজিত সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ স্থলে উপস্থিত সাংবাদিকগণ ও সড়কের পাশের দোকানিরা জানিয়েছেন, মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক, চেয়ার ভাঙচুরসহ উপস্থিত এনসিপি’র নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। হামলার মধ্যে বেশ কয়েটি ককটেলও বিস্ফোরণ করা হয়।

তবে এনসিপির নেতাকর্মীর ও পুলিশ পরে ওই হামলাকে প্রতিহত করে এবং মঞ্চ দখলে নেয়। এর কিছু সময় পর দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশ স্থলে পৌঁছান। পরে “আবু সাঈদ, মুগ্ধ; শেষ হয়নি যুদ্ধ”, “রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়”, “ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন” – এর মতো স্লোগানে মুখরিত হয় গোপালগঞ্জ পৌরপার্ক।

গোপালগঞ্জে সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় হামলার মুখে পড়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গাড়িবহর। শহরের সমাবেশস্থল থেকে বের হওয়ার পথেই কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহরের ওপর ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। পুলিশ ও র‍্যাবের পাহারায় এনসিপির নেতাদের শহর থেকে বাইরে বের করার চেষ্টা করা হলেও ব্যাপক হামলার মুখে তাদের আবার শহরে ফিরিয়ে আনা হয়।

কিছুক্ষণ পরে সেনাবাহিনীর টহল টিম সেখানে এলে তারাও হামলার মুখে পড়ে।

পরে এনসিপি’র নেতাকর্মীদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কম্পাউন্ডের ভিতরে আশ্রয় নেয়। এরপর  দুপুর ৪টার দিকে এনসিপি’র নেতাকর্মীদের সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে গোপালগঞ্জ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে পরিস্থিতি থমথমে। অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, এই হামলার কমপক্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এঘটনা জানতে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ