নিসা আক্তার দিনা, গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ কে বঙ্গবন্ধু গেরিলা বাহিনীর প্রধান পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছে।
এমন একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ৮মিনিট ৫ সেকেন্ডের ওই অডিও রেকর্ডে শোনা যায় কোন এক ব্যক্তি কোটালীপাড়া থানার ওসিকে গত ১৬ জুলাই এনসিপি’র সমাবেশ ঘিরে গোপালগঞ্জ ঘটে যাওয়া সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ ও নিসিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও গুলি করে হত্যার দায় চাপিয়ে হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি তাকে সংযত হওয়ার কথা বলেন। এসময় ওসি আবুল কালাম আজাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
এছাড়াও তিনি আরো বলেন, ওসি সাহেব মনে রাখবেন এটি গোপালগঞ্জ, এখানে কেউ বাড়াবাড়ি করে টিকতে পারেনি। কোনদিন জামাত শিবির রাজাকারো ও বিএনপি কখনোই এখানে যায়গা পায়নি, পারবেও না। আমাদের যে সকল সহযোদ্ধা ভাইদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রান্ত করছেন, বিরক্ত করেছেন, ধরে এনে পায়ের তাড়ায় পিটাচ্ছেন, এটা থেকে বিরত থাকেন। ৭১ এর চেতনায় সারা বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু গেরিলা বাহিনীর কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজেই সাবধান হোন, আপনাদেরও পরিবার আছে। আপনাদের যখন জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা ঝুলিয়ে পিটিয়ে মেরেছিল তখন কিন্তু আপনারা দশজন পুলিশও এক যায়গায় হয়ে প্রতিবাদ করেননি। মনে রাখবেন আমরা আবারও ক্ষমতায় আসবো। সবকিছুর হিসেব হবে, তখন ইঁদুরের গর্তে ঢুকিয়ে থাকলেও খুঁজে বের করা হবে।
এসময় ওসি গেরিলা বাহিনীর পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে বলেন, আপনার কথা শেষ হলে আমি বলব। তার কথা শেষ হওয়ার পরে ওসি আবুল কালাম আজাদ আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, আপনি যদি বঙ্গবন্ধু গেরিলা বাহিনীর প্রধান হয়ে থাকেন তাহলে তো আপনার সবকিছু জানা থাকার কথা। কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে যোগাযোগ আছে তাদের কাছে শোনেন আমি কোথায় ছিলাম।
আমার থানায় ও অনেক ঝামেলা হয়েছে, তাই সামাল দিতে আমাদের হিমসিম খেতে হয়েছে। ওইদিন মিছিলে তো কোটালীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ওহিদুল হাজারা, মতিয়ার হাজার, ছাত্রলীগের শামীম, লিটন, স্বপন সহ আরো দুই থেকে আড়াই হাজার লোক ছিল তাদের কাছে জানেন। আমার তো গোপালগঞ্জ যাওয়ার প্রশ্নই আসে না ভিডিওটি মিলিয়ে দেখেন তার পর আমাকে দোষারোপ করেন।
এই কথোপকথন ও হুমকির বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ আমাদের কন্ঠকে নিশ্চিত করে বলেন, আমাকে গত ১৭ জুলাইয়ে কোন এক সময় এই ফোনটি করে। এবিষয়ে আমি ভীত নই, এধরনের সমস্যা পুলিশ সব সময়ই মোকাবেলা করতে অভ্যস্ত। আমরা চোখ কান খোলা রেখেই আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গোপালগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন, ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে রাজনীতি নিসিদ্ধের কারনেই এমনটা হতে পারে। সংগঠনটি এখন আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করবে এটা অবিশ্বাস করার কোন সুযোগ নেই। সারা বিশ্বের এরকম নজির রয়েছে। এবিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরো সচেতন হতে হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৬জুলাই) গোপালগঞ্জে এনসিপি’র ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’কে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের পর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ ও নিসিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ জন কর্মী সমর্থক নিহত হন। পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক আহত হন।
পরবর্তীতে চারটি মামলায় মোট ৩ হাজার ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত মোট ৩ শ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।