ওসি ডিবি ও টিআইসহ ৭পুলিশ কর্মকর্তা পুরস্কৃত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের মাসিক কল্যাণ সভা গত বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে পুলিশ লাইনে জানুয়ারী-২০২১ মাসের কল্যাণ সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।কল্যাণ সভায় জানুয়ারী মাসে কৃতিত্বপূর্ণ ও ভাল, উত্তমএবং দায়িত্বশীলতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করায় ময়মনসিংহের ৭ পুলিশ সদস্যদেরকে পুরস্কৃত করা হয়। মাসিক কল্যান সভায় পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, হালুয়াঘাট থানার ওসি মাহমুদুল হাসান, ডিবি ওসি শাহ কামাল আকন্দ, ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ডিবি এসআই পরিমল চন্দ্র সরকার, শামীম আল মামুন, কোতোয়ালী থানার এসআই শুভ্র সাহা ও মুক্তাগাছা থানার এএসআই জাহাঙ্গীর আলম। সভায় ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান বলেছেন, নগরীর শম্ভুগঞ্জ মোড়ে অচীরেই ইন্টারসেকশন হচ্ছে। ইন্টারসেকশন হলে শম্ভুগঞ্জ মোড়, হালুয়াঘাট, শেরপুর, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ সড়কের যাত্রীদের সময়ের পাশাপাশি দুর্ভোগ কমবে। পুলিশ সুপার আরো বলেন, পুলিশ সদস্যদের কাজের প্রতি আরো অনুপ্রাণিত ও মোটিভেশন করতে পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। যে সত্যিকারে কাজ করবে তাকেই পুরস্কৃত করা হবে। ব্যক্তিগতভাবে পারফরমেন্স গড়ে বাংলাদেশ পুলিশের সম্মান ও মর্যাদা বাড়ানোর জন্য আমরা তাদেরকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহিত করি। সভায় পুলিশ সুপার আরো বলেন, নগরীর শম্ভুগঞ্জ (তিন রাস্তার) মোড়ে অবৈধ ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করায় ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, কয়েক যুগ ধরে শম্ভুগঞ্জ (তিন রাস্তার) মোড়ে ট্রাক ও পিকআপ চালকরা অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছিলো।

এই মোড়ে অবৈধ ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ডের কারণে রাস্তা দখল করে যানবাহন রাখায় যানজট লেগেই থাকতো। এই তিন রাস্তার মোড় হয়ে ঢাকা- শেরপুর, হালুয়াঘাট, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ, ভৈরব হয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন রোডে চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহন প্রায় আধা ঘন্টা ও কখনো কখনো ঘন্টারও বেশি সময় যানজটে আটকা পড়তো। যাত্রী দুর্ভোগ ছিল মারাত্বক। ঈদ মৌসুম ও বিশেষ মৌসুমে আটকে পড়া অধিকাংশ যানবাহন রাত পেরিয়ে ঈদের নামাজের পরেও তাদের গন্তব্যে পৌছতে না পারার নজির ছিলো। এ সময়ে ট্রাফিকের পাশাপাশি পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ ঘর ফেরত মানুষদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌছাতে রাস্তায় সময় পার করতে হতো। এজন্যই আমি দুর্ভোগ লাগবে ট্রাফিক বিভাগের হয়ে দায়িত্বশীলতার সাথে প্রতিকারে নেমেছিলাম। কারণ চিহিৃত করে পুলিশ সুপারের নির্দেশেনায় সুষ্ট পরিকল্পনায় মটর মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীলদের সাথে আলোচনা করে অবৈধ ট্রাক ও পিকআপ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ বা অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি। আর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দকে কুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন,খুনীদের গ্রেফতার এবং আদালতে স্বীকারোক্তি, মাদক ও চোরা চালান দমন, চোরাই পণ্য উদ্ধার করায় তাকে পুরস্কৃত করা হয়। হালুয়াঘাটের ওসি মাহমুদুল হাসান ওয়ারেন্ট তামিল, মাদক উদ্ধার ও মামলা তদন্তে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়ায় তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ডিবির এসআই পরিমলকে কুলেস একটি হত্যা মামলায় দ্রুততম সময়ে আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য এবং এসআই শামীম আল মামুনকে মাদক উদ্ধারে পুরস্কৃত করা হয়েছে। অপরদিকে কোতোয়ালী এসআই শুভ্র সাহা ও মুক্তাগাছা এএসআই জাহাঙ্গীর আলমকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। পুরস্কার বিতরণকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান মিয়া, জয়িতা শিল্পী, ফজলে রাব্বী, হাফিজুর রহমান সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ির পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :