করোনায় প্রাণ গেল আরও ৯৫ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক:  মহামারি করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। টানা চারদিন শতাধিক মৃত্যুর পর গতকাল সে সংখ্যা নব্বইয়ের ঘরে (৯১) নেমেছিল। এ নিয়ে মোট মৃত্যু ১০ হাজার ৬৮৩।বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজার ৪০৮টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ হাজার ২৮০ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। এতে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ লাখ ৩২ হাজার ৬০ জনে। পরীক্ষা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৭২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৩ জন। শনাক্ত বিবেচনায় প্রতি ১০০ জনে সুস্থ হয়েছে ৮৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং মারা গেছেন ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ এবং নারী ৩৬ জন। এখন পর্যন্ত পুরুষ ৭ হাজার ৮৮৬ জন এবং নারী মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৭৯৭ জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায় যায়, মৃতদের মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৫৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৩ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন মারা গেছেন।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মার্চ মাস থেকে তা শুধুই বাড়ছে। গত ১৬ এপ্রিল মৃত্যু একশো ছাড়ায়। সেদিন ও তার পরদিন ১৭ এপ্রিল ১০১ করে মৃত্যু হয় করোনায়। ১৮ এপ্রিল ১০২ জন ও ১৯ এপ্রিল ১১২ জন মারা যান, যা একদিনে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা এটাকে বাংলাদেশে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন। করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় বুধবার থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার, যা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :