করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন থমকে গেছে

আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু,কুষ্টিয়া

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে থমকে গেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন। ফলে বেড়েছে জনদুর্ভোগ। সড়ক, সেতু, কালভার্টসহ বিভিন্ন ভবন অবকাঠামো উন্নয়ন থমকে পড়েছে। কোন কোন স্থানে কাজ চললেও গতি নেই। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে চলছে ধীর গতি। বন্দ হওয়ার উপক্রম হয়েছে গড়াই নদীর উপর নির্মানাধীন কুমারখালী-যদুবয়রা সেতুর কাজও। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সবে মাত্র শুরু হয়েছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলীয় পাঁচ ইউনিয়নবাসীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিকে ক্যানাল সংলগ্ন সান্দিয়ারা টু লাহিনীপাড়া সড়ক উন্নয়ন কাজ। করোনায় থেমে গেছে সে উন্নয়ন কাজ। বেড়েছে জন সাধারনের চরম দুর্ভোগ। সরেজমিনে দেখা যায়, উক্ত সড়কের প্রতি কদমে কদমে গর্ত, কোথাও কোথাও আবার ছোট খাটো যেন পুকুর! একটু বৃষ্টিতেই জমে থাকে পানি। মাঝে মাঝে রাস্তার দুপাশ ভাঙা। গাড়িতে উঠলেই ঝাঁকুনি আর ঝাঁকুনি। প্রায় প্রতিদিন উল্টে ভেঙে যায় মাল ও যাত্রীববাহী গাড়ী।

বিকল হয়ে পড়ে থাকে যানবাহন। রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সুস্থ মানুষগুলোও অসুস্থ্য হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সব মিলে চরম ভোগান্তি দূর্ভোগ আর বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে সান্দিয়ারা টু লাহিনীপাড়া সড়ক। যেন মৃত্যুর ফাঁদে পরিনিত হয়ে আছে রাস্তাটি। জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলীয় যদুবয়রা, চাপড়া, বাগুলাট, চাঁদপুর ও পান্টি ইউনিয়নবাসীর রাজধানী ও জেলা শহরে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা এটি। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার শৈলক‚পা উপজেলাবাসীও তাদের নিত্য প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করে এই রাস্তাটি। এই অঞ্চলের মানুষ এ রাস্তা দিয়েই যাওয়া আসা করেন।

ফলে এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবহন ও মানুষের চলাচল।কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও জনপ্রতিনিধিদের অবহেলায় রাস্তাটি নির্মানের পর আর কোনোদিন সংস্কারের মুখ দেখিনি। ফলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক খানাখন্দ। রাস্তার দুপাড় ভেঙে চলে গেছে বিভিন্ন স্থানে। সবমিলে বর্তমানে রাস্তাটি এখন চলার সম্পূর্ণ অনুপযোগী। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে চলাচল করছে মানুষ। এতে প্রতিদিনই প্রায় সংঘটিত হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। এবিষয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী অটো চালক আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতিদিন যদুবয়রা থেকে লাহিনী পর্যন্ত অটো গাড়ী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি।

রাস্তায় শতশত গর্ত, কোথাও বা পুকুরের মত। বৃষ্টি হলেই জমে পানি। রাস্তার পিচ অনেক আগেই উঠে গেছে। ২০ মিনিটের পথ যেতে ৪০-৫০ মিনিট সময় লাগে। প্রতিদিন প্রায়ই অটোসহ অন্যান্য গাড়ী উল্টে যায়। যাত্রী আহত হয়, মানুষ ভয়ে কোনো গাড়িতেই উঠতে চায় না। গাড়ী চালক রায়হান বলেন, এই রাস্তা দিয়ে একজন সুস্থ মানুষ কুষ্টিয়া পর্যন্ত যাওয়া আসা করলে অসুস্থ হয়ে যায়। আর কোনো অসুস্থ মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যেতেই চায় না। র্ভবতী মহিলাদের জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাস্তাটি। এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী একজন ট্রাক ড্রাইভার বলেন, মাল বোঝায় গাড়ী মাঝে মাঝে গর্তে আটকে থাকে। চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তিনি আরো বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার ক‘দিন পরেই বন্ধ হয়ে গেছে।সংস্কারের বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, জিকে ক্যানেল সংলগ্ন রাস্তাটি ০০ কিঃমিঃ থেকে ১৫ কিঃমিঃ (সান্দিয়ারা টু লাহিনী কুমারখালীর অংশ) পর্যন্ত ৫. ৫ মি কার্পেটিং এবং সোল্ডারসহ মোট ৭.৩২ মিটার চওড়া করার জন্য ১৫ কোটি ৭ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮৫৩ টাকা ব্যয়ে মাটির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রবল থাবায় থেমে গেছে কাজ। তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আশা করছি কাজ শুরু হবে।

ফরিদপুরের রাফিয়া কনস্ট্রাকশন সড়ক উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করছিল। আগামী বছর জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে সমাপ্ত হবেনা এমনটি আশংকা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া রাজবাড়ী আর এন্ড এইচ পান্টি জিসি ভায়া যদুবয়রা সান্দিয়ারা বাজার সড়ক উন্নয়ন কাজ এলজিইডির ২৫ আর ডি সড়কটি পথ চলাচলের জন্য বাস্তবায়ন করা হয় এক যুগেরও অধিক সময় পূর্বে। কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় থেমে গেছে উন্নয়ন কাজ। ফলে বেড়েছে জনসাধারনের চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তি।

আপনার মতামত লিখুন :