করোনা মহামারিকে ঘিরে সক্রিয় প্রতারক চক্র ৮ হাজার টাকার অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি ৩০ হাজার টাকা

…………….আমিনুল ইসলাম:………….

করোনা মহামারিকে ঘিরেও সক্রিয় প্রতারক ব্যবসায়ীচক্র। করোনা পরীক্ষা, চিকিৎসা, প্লাজমা দান, করোনা চিকিৎসক, ওষুধ, রোগী সেজে প্রতারণা করে আসছে এসব চক্র। এসব প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনসৃঙ্খলা বাহিনীর সারাশি অভিযান অব্যহত। তার পরেও থেমে নেই প্রতারনার ব্যবসা। রাজধানীসহ সারাদেশে করোনারোগ সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বিক্রি করছে চরা মূল্যে। জানা গেছে গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগীর জন্য অক্সিজেন অপরিহার্য্য। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই দেদারছে বিক্রি করছে অক্সিজেন সিলিন্ডার। সুযোগ বুঝে ৮ হাজার টাকার প্রতিটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম নেয়া হচ্ছে ২৫/৩০ হাজার টাকা। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর মগবাজার রেল গেটের পাশে নাইম এন্টারপ্রাইজ নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ মূল্যে বিক্রি করছে মেডিকেল ।

তার নেই কোনো অনুমোদন, শুধুমাত্র ট্রেড লইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছে। অথচ মেডিকেল ইকুপমেন্ট বিক্রি বা সংরক্ষণ করতে হলে স্থাস্থ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, ট্যাক্্র টিন থাকার কথা। এসবের কিছুই নেই নাইম এন্টারপ্রাইজের। তারপরেও রাজধানীর মগবাজার রেলগেটের পাশে ২টি দোকান, মোহাম্মদপুর ১টি ও গাজীপুরে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো অনুমোদনের প্রমানপত্র দেখাতে পারেনি। উল্টো এ প্রতিবেদককে মামলা হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, আমি গণআজাদীলীগ নেতা, রমনা থানার ওসি আমার লোক, আমি আপনার বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা দিব। আপনি আমার ব্যবসা নিয়ে নিউজ লিখে কিছুই করতে পারবেন না বলেও এ প্রতিবেককে হুমকি দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনুমোদনহীন ব্যবসা চালিয়ে যেতে রাজধানীতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন ব্যবসায়ী মিলে এসোসিয়েশন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর বাইরে নকল সুরক্ষা সামগ্রী, স্যানিটাইজার, মাস্ক নিয়েও আরেক শ্রেণির চক্র প্রতারণা করছে। সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা করে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ। প্রতারক চক্রের কাছে টাকা খুঁইয়ে হয়রানি আর ভোগান্তির শিকার হয়েছেন অনেকেই। সাম্প্রতিক সময়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে একাধিক চক্রের সদস্য। এদিকে এসব প্রতারণার বাইরে দেশে করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই নকল সুরক্ষা সামগ্রী, হ্যান্ডস গøাভস, স্যানিটাইজার তৈরি করে এক শ্রেণির প্রতারকরা প্রতারণা করে আসছে। রাজধানীর লারবাগ,হাজারীবাগ,কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জের বাসা বাড়িতে নকল হ্যান্ড সেনিটাইজার ও মাস্ক তৈরী করছে। এসব এলাকায় মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম।

অনুমোদহীন অক্্িরজেন বিক্রির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানালেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট । এ ছাড়া করোনা রোগের টিকা ও ওষুধের কথা বলেও কেউ কেউ প্রতারণা করে আসছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো ব্যবসায়ী যদি অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা করে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানা গেছে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ, মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও অক্সিজেনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ওষুধের দাম বাড়ানোর পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়েও একই দাবি তোলা হয়েছে রিটে। গত (১৬ জুন) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান লিংকন জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিবেদনের মাধ্যমে ইদানীং লক্ষ করছি, করোনা চিকিৎসার জন্য বহুল ব্যবহৃত মেডিক্যাল অক্সিজেন এবং এই সংক্রান্ত ওষুধের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এই ওষুধগুলো কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রকৃত দামের থেকে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। যা করোনায় বিপর্যস্ত মানুষের অবস্থা আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে এবং তাদের জীবনহানির আশঙ্কা বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রিট আবেদনে আরও বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে আমরা লক্ষ করছি শুধু সিন্ডিকেট করে ওষুধের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিই নয় অনেক ক্ষেত্রে মানহীন এই মেডিক্যাল অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ওষুধ বাজারে সরবরাহ করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দুর্যোগের মধ্যে অসাধুভাবে মুনাফা অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, যা এই মূহুর্তে বন্ধ করা খুবই জরুরি। রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :