কারওয়ান বাজার থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি প্রবাসীরা

স্টাফ রিপোর্টার:

কারওয়ান বাজার থেকে অবরোধ তুলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে যাত্রা করেছে সৌদি প্রবাসীরা। এর আগে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিল সৌদি আরব থেকে ছুটিতে এসে আটকে পড়া প্রবাসীরা। তবে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর তারা অবরোধ তুলে নিয়েছে। এখন তারা সমস্যা সমাধানের দাবি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে যাত্রা করেছে।

তেঁজগাও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘টিকিট জটিলতা সমাধানের দাবিতে প্রবাসীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। বিক্ষোভের খবর পেয়ে আমরা সেখানে ছুটে যাই এবং তাদের বোঝাতে সক্ষম হই যে, রাস্তা অবরোধ করে এর সমাধান হবে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে সমাধান করার পরামর্শ দিলে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে চলে যান। তবে জানতে পেরেছি তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে গেছেন।’

সকাল নয়টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত কারওয়ান বাজার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন সৌদি প্রবাসীরা। এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। থেমে যায় পরিবহন চলাচল। পরে জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে অবরোধ থেকে সরে যান বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে যারা ছুটিতে দেশে এসেছিলেন ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের বেশির ভাগের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এটি নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন তারা। এ অবস্থায় দ্রুত সৌদি আরবে ফিরে যেতে না পারলে চাকরি যাওয়ারও আশঙ্কা করছেন তারা। তাদের অভিযোগ, যাদের এটির দায়িত্ব তারা খামখেয়ালি করছেন।

মো. রায়হান ফরহাদ নামের একজন প্রবাসী বলেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বের আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হবে। এর আগে সৌদি যাওয়ার টিকিট না পেলে সেখানে আর ঢুকতে পারব না। ভিসার মেয়াদও বাড়াতে পারবো না। সেইসঙ্গে চাকরিও চলে যেতে পারে। এখানে যারা বিক্ষোভ করছে তারা সবাই একই সমস্যায় ভুগছেন।

করোনার কারণে আগে থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব সরকার। ফলে দেশটি থেকে যারা আসছেন তারা বিশেষ ফ্লাইটে আসছেন। অপরদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালু হওয়ার কথা ছিল। সেই হিসাবে প্রতি সপ্তাহে তারা বাংলাদেশ থেকে ২টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গত সপ্তাহে আবেদন করলেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন বাতিল করে দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমানকে সৌদি সরকার বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালিত হবে। কিন্তু বাংলাদেশ বিমানকে সৌদিতে বিমান পরিচালনার অনুমতি দিলেও এখন পর্যন্ত ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে বাংলাদেশ বিমান ফ্লাইটের শিডিউল ঘোষণা করতে পারছে না। তবে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, ‘প্রবাসীদের বিষয়টি আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইন্সকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। আমাদের সিভিল এভিয়েশনও অনুমতি দিয়েছে। আর সৌদি আরব বাংলাদেশকে ফ্লাইটের অনুমতি দিলেও ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেয়নি। আমরা পুরো বিষয়টি সমাধানে কাজ করছি। আশা করি দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।‘

আপনার মতামত লিখুন :