কারা আসছেন জবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে?

স্টাফ রিপোর্টার

ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার কমিটি বিলুপ্তির দেড় বছর পার হলেও এখনো নতুন কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্র। মাঝে সম্মেলন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনসহ নানা কিছু ঘটলেও ছাত্রলীগের এই ‘সুপার ইউনিট’ চলছে কমিটি ছাড়াই। তবে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের তরফ থেকে এ শাখার কমিটি দেয়ার কথা বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে। এ অবস্থায় আলোচনা চলছে, কারা আসছেন জবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে?

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের এক নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিটের কমিটি দ্রুত দেয়ার নির্দেশনা দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে। এই নির্দেশনার পরই পদপ্রত্যাশী নেতারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন উচ্চপর্যায়ে।

সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর এফএম শরীফুল ইসলামকে সভাপতি ও এস এম সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে জবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি করা হয়। ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই শরীফ-সিরাজ ১৯৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন। ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ প্রথম সম্মেলনের পর শরীফ-সিরাজ কমিটির বিলুপ্তি ঘটে।

এর দীর্ঘ ছয় মাস পর ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর তরিকুল ইসলামকে সভাপতি ও শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গড়ে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তরিক-রাসেল কমিটি দেড় বছর অতিবাহিত করলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দুইবার স্থগিতাদেশের পর ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে ১৯ মার্চ তরিক-রাসেল কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়া হয়। এরপর ওই বছরের ২০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সম্মেলনের পর নানা বিতর্কের মুখে গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এতে জবি ছাত্রলীগের কমিটি ফের অনিশ্চয়তায় পড়ে।

শোভন-রাব্বানীর বিদায়ের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আল-নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লেখক ভট্টাচার্য দায়িত্ব পান। তারপর এ বছরের ৪ জানুয়ারি দুই নেতা পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পান। কিন্ত তাদের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নেয়ার আট মাস পেরিয়ে গেলেও শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের ভাগ্য ফেরেনি।

ছাত্রলীগ সূত্র জানিয়েছে, নেতৃত্ব ঘোষণার আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ার পর সংগঠনের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এলাকায় বাড়ি, এমন বেশ কয়েকজন শীর্ষ পদ পেতে উঠে-পড়ে লেগেছেন। তবে ফরিদপুর, উত্তরবঙ্গ, বরিশাল, সিলেট এলাকা থেকেই শীর্ষ পদে নেতৃত্ব আসতে পারে।

অবশ্য এক্ষেত্রে যারা বিগত দিনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন, দলের জন্য ত্যাগ শিকার করেছেন, কোনো ধরনের নেতিবাচক অভিযোগে বিদ্ধ হননি, এমন নেতৃত্বই প্রত্যাশা করছেন কর্মীরা।

সংগঠন সূত্র বলছে, কমিটিতে জবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম টিটন, জামাল উদ্দিন, আব্দুল্লাহ শাহিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম ফরাজি, সৈয়দ শাকিল এবং সাবেক সহ-সম্পাদক নাহিদ পারভেজ শীর্ষ পদে আসতে পারেন।

এছাড়া সাবেক সহ-সভাপতি আল আমিন শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হোসনে মোবারক রিসাদ এবং তারেক আজীজও আলোচনায় আছেন।

সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন, নুরুল আফসার, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম, সাবেক দফতর সম্পাদক শাহবাজ হোসেন বর্ষণ, সাবেক সহ-সম্পাদক খালিদ হাসানও কমিটিতে পদ পেতে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

জবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মোবাইলে কল করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :