কার নিয়ন্ত্রণে রমেক হাসপাতাল

খায়রুল আলম রফিক ঢাকা-তাজিদুল ইসলাম লাল রংপুর

কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (রমেক)। দায়িত্বরত সরকারী কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে হাসপাতাল থেকে বরখাস্তকৃত, চাঁদাবাজী, জমি দখল, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ও রংপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ একটি সিন্ডিকেটকে সবধরনের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। সিন্ডিকেটটি বাংলা ভাই কিংবা এরশাদের শিকদারের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকেও হার মানিয়ে রোগী, রোগীর স্বজন ও কর্মচারীদের জিম্মি করে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এদিকে, সরকারি নিয়মনীতির সুস্পষ্ট লংঘন করে জালিয়াতির মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের নানান সুযোগ সুবিধা তৈরি করে দিয়ে নিজে কয়েক কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়ে পরিচালক ফরিদুল হক চৌধুরী তড়িঘড়ি করে স্বেচ্ছায় আগাম অবসর নিয়ে কেটে পড়েছেন। এসব বিষয়ে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সুত্র জানায়, ২০১৯ইং সালে রমেক হাসপাতালে পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন ফরিদুল হক চৌধুরী। এরপর থেকে শুরু নানান অনিয়ম ও দুর্ণীতি। তিনি যোগদানের পর প্রথমে অর্ধ কোটি টাকার বিনিময়ে স্থগিত থাকা ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির নির্বাচন দিয়ে দেন। হত্যা মামলাসহ নানান কারণে দীর্ঘ দিন থেকে স্থগিত ছিল ওই সমিতির নির্বাচন। যে মামলা এখনও চলমান রয়েছে।

যার নং ২২, তারিখ ৭/০৯/১৬ইং। জিআর নং ৭৫৭/১৬। শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ১৯৮৫ এর অনুচ্ছেদ বিসিডি ধারা মোতাবেক স্মারক নং ১৯৯৩.১৯৯১.১৯৯৪.১৯৯২, তারিখ- ১২/০৬/২০১৭ইং তাদেরকে হাসপাতালের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সরকারি চাকরির বিধানাবলী অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তের অর্থ হচ্ছে, কোন কর্মচারীকে সাময়িকভাবে কার্য সম্পাদনে, দায়িত্ব পালনে, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রয়োগে বিরত রাখা এবং কতিপয় সুবিধাপ্রাপ্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা। বরখাস্তকৃতরা হলো মশিউর রহমান বকুল, আশিকুর রহমান নয়ন, শাহিনুর ইসলাম, আলী আহম্মেদ মজুমদার বাবু, মামুনুর রশিদ বিপ্লব, আব্দুর রউফ সরকার। ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২০ইং তারিখে তৎকালীন পরিচালক, পরিচালক প্রশাসনসহ সকল কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মিন্টুকে নির্বাচন কমিশনার বানিয়ে বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় বরখাস্তকৃত কর্মচারীর শীর্ষ সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটটি বিজয় লাভ করে। ভোট গ্রহণের আগে বিভিন্ন পদে কয়েকজন মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেও তা কেড়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলা হয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। অবশ্য সম্প্রতি মামলা থেকে কয়েকজন অব্যাহতি পান এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং তারিখে হাসপাতাল থেকে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তবে বহিস্কৃত থাকাবস্থায় বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতার নির্বাচনে নির্বাচিত হলেও এখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নির্বাচন বাতিল করেননি।

সুত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটটি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নিয়ে বরখাস্ত থাকা সত্তে¡ও হাসপাতালের সকল ধরনের উন্নয়নমূলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েন। তারা আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠন ও জামায়াতিদের সমন্বয়ে তৈরি করেন বিশাল একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। এর আগে রংপুরে এধরনের সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট ছিলো না। এই সিন্ডিকেটটি হাসপাতালের সাধারণ কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ক্ষমতার দাপটে দমিয়ে রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ যেমন, ডাক্তারদের রুম মেরামত, ডাষ্টবিন পরিস্কার, এসি মেরামত, হাসপাতাল ফ্রিজ, স্ট্যান্ড ফ্যান্, সিলিং ফ্যান, মাঠের গাছ বিক্রি, বিভিন্ন রিপিয়ারিং কাজ, বিদ্যুৎ সংস্কার, বøাড ব্যাংক, জরুরী বিভাগ, পুলিশের কেসের ডেড বডি, ৫ম তলার পত্তর শাখা, সাধারণ কর্মচারীদের হয়রানীমূলক বদলি, সরকারি গাড়ী ব্যবহার, টেন্ডারবাজিসহ সাব-ঠিকাদারী কাজগুলো অতিরিক্ত মুল্যে করছেন। এতে করে সরকারের প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। সিন্ডিকেটটির উৎপাত ও তাদের অতিরঞ্জিত দাপটের কারণে সাধারণ কর্মচারীরাও রয়েছেন আতঙ্কে।

সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলো- ঠিকাদার জয়নালের ভাই জালাল ও ঝান্টু, বাবলু ঠিকাদারের ছোট ভাই রুপম, ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুল, ভায়রা মোস্তফা, পূর্বগেটের বিএনপি নেতা করিম, মেডিকেল কলেজের সুইপার দাড়িয়া সাজু, হাসপাতালের ক্লিনার আউয়াল, সর্দার আশরাফুল ইসলাম খোকন, হামিদুল ইসলাম, পিয়ন রউচ, পিয়ন ভানু, প্রচার সম্পাদক সুমন, বরখাস্তকৃত সর্দার আব্দুর রউফ সরকার, মশিউর রহমান বকুল, জামায়াত নেতা ইলেক্ট্রিশিয়ান রোকন, হাসপাতাল কর্মচারী নাঈম, জরুরী বিভাগের কর্মচারী বাদল, বøাড ব্যাংকের কর্মচারী পলাশ, বিপ্লব, আজিজ, কাওছার, ছাত্রদল নেতা বøাড সুমন, নয়নের ভাগ্নে ক্যাডার স্বপন, চুক্তিভিত্তিক ক্যাডার মুকুল, ডিসি অফিসের মোজাহার ও খান বাবু। এই সদস্যরা হাসপাতালে কোন কাজ করে না। তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চাঁদাবাজিসহ মাস্তানি কার্যক্রম চালিয়ে বেড়ায়। তারা চুক্তিভিত্তিক জনবল দিয়ে তাদের পরিবর্তে কাজ করিয়ে নেন। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আশিকুর রহমান নয়ন ওরফে ভাঙ্গা নয়ন ও মশিয়ার রহমান বকুল। এরা হাসপাতালের ছোট বড় ঠিকাদারী কাজ করছেন এবং কালোতালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের লাইসেন্সেও তারা কাজ করছেন। বিভিন্ন খাত থেকে অবৈধ আয়ের টাকাগুলো ৪ ভাগ করা হয়। এক ভাগ পেত পরিচালক ফরিদুল হক চৌধুরী, ২য় ভাগ ওয়ার্ড মাস্টার মাহমুদুল হাসান পার, ৩য় ও ৪র্থ ভাগ আশিকুর রহমান নয়ন ও মশিয়ার রহমান বকুল এর।

সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বিক বিষয়ে লিয়াজো করে দিতেন ওয়ার্ড মাস্টার মাহমুদ হাসান। তিনিও বর্তমানে অঢেল সম্পদের মালিক।
সুত্র আরও জানায়, সন্ত্রাসী নয়ন ও বিএনপি নেতা করিমের কাছে রয়েছে ছোট চায়না রিভলভার। যার কারণে সিন্ডিকেট তৈরি করে হাসপাতালের কর্মচারীদের সবসময় জিম্মি করে রাখা হয়। এর পাশাপাশি প্রতি মাসে ৫০টি ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রিজেনটিভদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে মাসে আড়াই লাখ টাকা আদায় করেন। হাসপাতালের ল্যাট্রিন থেকে বাড়তি হয় মাসে ৩০ হাজার টাকা। ৫টি কোয়াটার থেকে ভাড়া বাবদ অবৈধ আয় করেন মাসে ২০ হাজার টাকা। এভাবেই বিভিন্ন খাত থেকে প্রতি মাসে তাদের আয় হয় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। এছাড়াও প্রমোশন বোর্ড মিটিং বাতিল হলেও তৎকালীন পরিচালকের ক্ষমতায় তা পাশ করে নিয়ে ২১ জনের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। আরও জানা গেছে, এক দিনের ব্যবধানে এমএলএসএস হামিদুল ইসলামের অফিস সহায়ক পদে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে জরুরি বিভাগের এমসি শাখার ইনচার্জ করে দেন। তার কাছ থেকে ভানুরাম হয়ে প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা করে নয়ন ও মশিউরের কাছে আসে। এমএলএস আশরাফুল ইসলাম খোকনকে সর্দার পদে পদায়ন করে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে। মেডিকেল মোড়ের বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো থেকে মোট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ১ জন করে প্রতিনিধি নিয়ে হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি হাসপাতালে কিছু সংখ্যক আউট সোর্সিং এ জনবল নিয়োগের কথা বলে প্রায় ৫০ জনের কাছ থেকে (প্রতি জনের কাছ থেকে) ৫০ হাজার টাকা করে অবৈধভাবে ২কোটি ৫০ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। এভাবেই বিভিন্ন খাত থেকে প্রতি মাসে তারা সিন্ডিকেটে মাধ্যমে অর্ধকোটি টাকা আয় করছেন। এই বিশাল অঙ্কের এই অবৈধ টাকাগুলোও চার ভাগ করা হতো।
আদালত সুত্র জানায়, হাসপাতাল কর্মচারী সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোখলেছার হত্যা মামলার ঘটনায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং তারিখ আদালতে ৩য় বারের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর আসামী পক্ষের উকিল সকল আসামীদের মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেন এবং কয়েকজনকে বিজ্ঞ আদালত মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। এরপর গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং স্মারক নং- রচিমহা/রং/প্রশাঃ/২০২০/—-২৫৩৬/১(১০) পরিচালক ডাঃ ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত দুটি অফিস আদেশে ৫জনের বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে নেন। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে নাম থাকায় আশিকুর রহমান নয়ন ওরফে ভাঙ্গা নয়ন এখনও বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। এছাড়াও ২০১৫ইং সালের ৭ নভেম্বর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে গুলির ঘটনায় আশিকুর রহমান নয়নকে আটক করেছিল পুলিশ। এদিকে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং তারিখে দুর্নীতি দমন ব্যুরো (দুদক) এর একটি টিম হাসপাতাল পরিদর্শন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

কর্মচারী সমিতির এক সদস্য সম্প্রতি তার ফেসবুক একাউন্টে সহ-সভাপতি পদে জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় একজনকে রাখার বিষয়ে মন্তব্য করার অপরাধে হাসপাতাল থেকে তার সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে অবশ্য চাপ প্রয়োগ করে ফেসবুক থেকে ওই অংশটি ডিলেট করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে, রেখা মনি রেখা নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী একটি ভিডিও ফুডেজ দিয়ে তার একাউন্টে লিখেছেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নানা রকমের অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আপনারা ভিডিওটিতে দেখতে পাচ্ছেন সাদা লাল চেক গেঞ্জি পরা ছেলে টি ও আর একজন সাদা প্রিন্টের শার্ট পরা এরা দুজনেই কাজটি করছেন। ওখানে তাদের আরো কয়েকজন শেয়ার আছেন এই অপকর্মের সাথে। এমার্জেন্সি তে ভর্তি ফি ৩০ টাকা লেখা থাকলেও, প্রত্যেকটি রোগী ভর্তির ১০০শ থেকে ২০০শ টাকা নেওয়া হচ্ছে। রোগীর ট্রলি ধরা ২০০শ টাকা থেকে ৩০০শ টাকা। রাত বারোটার পরে তাদের এ ধরনের অপকর্ম শুরু হয়। টাকা দিলে রোগী ভর্তি, না দিলে রোগী ফেরত।
তৌফিকুর রহমান রিপন নামে অপর একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, আমরা জীবনের ঝুকি নিয়ে বারবার লিখছি কিন্তু এর প্রতিকার কি স্বাস্থ্য প্রশাসন কারবেন? রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অব্যবস্থাপনার চুড়ান্ত পরিণতিতে! ভর্তি থেকে শুরু করে চিকিৎসা পর্যন্ত বিশেষ করে আর্থিক হয়রানির শিকার প্রান্তিক রোগীরা! সক্রিয় দালালচক্র! সংগঠিত চক্র ইচ্ছে করে মেশিন নষ্ট করে বাহিরের ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠায় কমিশনের বিনিময়ে। হাসপাতাল এর ঔষধ থেকে এসি, ফ্যান পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাচ্ছে!

দেখার কেউ নেই! অসহায় রোগীদের পদে পদে টাকা দিতে হয়। এক কথায় দালাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হয়। উত্তরবঙ্গের এই হাসপাতাল ২ কোটি মানুষের চিকিৎসার প্রাণকেন্দ্র। অথচ সন্ত্রাসী চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে এই হাসপাতাল। বিরাট সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী আছে এ চক্রের! ভয়ে কেউ মুখ খুলে না। না সাধারণ কর্মচারী, চিকিৎসক, কিংবা ভুক্তভোগী রোগী। প্রতিবাদ করলেই মৃত্যু! কি করে হবে আমাদের এই উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক রোগীদের সুষ্ঠু চিকিৎসা এখানে? প্রতিকার কি? প্রশাসনকেই খুঁজে বের কতে হবে এর প্রতিকার। রাজনৈতিক ছাত্রছায়ায়া আর কত! যে করেই হোক অসহায় প্রান্তিক রোগীদের হয়রানী বন্ধ করে সুষ্ঠু চিকিৎসা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
এসব বিষয়ে হাসপাতালের নব্যবিদায়ী পরিচালক ডাঃ ফরিদুল হক চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, যা ভাল মনে করেছি তাই করেছি। বরখাস্তকৃতদের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সুযোগ ও তাদেরকে অফিস আদেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ক্ষমতা থাকলেও সবকিছু আমি করতে পারি না। এসব বিষয়ে সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ করছেন কি না, বললে ফোন কেটে দেন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সুলতান আলী মুঠোফোনে জানান, রমেক হাসপাতাল ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করেন। একই পদমর্যাদার হওয়ার কারণে হাসপাতালের বিষয়ে তার কিছুই করোনীয় নেই বলে জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও রমেক হাসপাতাল সভাপতি রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি লান্স করছেন, পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরবর্তীতে তার সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ করেননি।

 

আপনার মতামত লিখুন :