কালিহাতি এস.আর কার্যালয়ে ঘুষ বাণিজ্য সাব-রেজিষ্ট্রারের গাড়িতে পুলিশ ষ্টিকার ব্যবহারের অভিযোগ

সাব্বির আব্বাসী, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম ও তার অফিস সহকারি সুভাষ চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানাযায়, সাব-রেজিষ্টার মোঃ শহিদুল ইসলাম ও তার অফিস সহকারী রিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ থাকলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় অফিস সহকারি সুভাষ চন্দ্র পালের কালো থাবায় ওই কার্যালয়টি ঘুষ গ্রহণের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সাব-রেজিষ্টারের অফিস সহকারির বাড়ী ঘাটাইলের হামিদপুরে হওয়ায় ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতি করে যাচ্ছে। তার কর্মস্থল কালিহাতিতে ২ বছরের অধিক সময় যাবৎ কর্মরত থাকার সুবাদে এস.আর কার্যালয় থেকে প্রতিমাসে তার পকেটস্থ করছে লাখ লাখ টাকা। তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়- অফিস সহকারী সুভাষ চন্দ্র পাল এস আর কার্যালয়ে যোগদানের পর হতে ঘুষ গ্রহনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে ঘুষ গ্রহণ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বরত সাব-রেজিষ্ট্রারদের জিম্মি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণ করে আসছে। সম্প্রতি সময়ে সাব-রেজিষ্টার হিসাবে শহিদুল ইসলাম যোগদান করে তার অফিস সহকারী সুভাষ চন্দ্র পালের মাধ্যমে জমি ক্রেতা বিক্রেতার উভয়ের কাছ হতে প্রতিটি দলিল হতে ঘুষ বাবদ টাকা আদায় করে যাচ্ছে। সাব-রেজিষ্টার মোঃ শহিদুল ইসলাম প্রতিদিন তার প্রাইভেট গাড়িতে পুলিশের ষ্টিকার লাগিয়ে অফিসে আসা- যাওয়া করেন।

তার গাড়ি রেজিষ্ট্রেশন নং- ঢাকা মেট্রো-গ ১৯-৯৫৯৯। এতে দলিল লেখক থেকে শুরু করে সকল কর্মচারীরা ভয়ে ভীত সন্ত্রস্থ থাকেন। তিনি তার গাড়িতে পুলিশের ষ্টিকার কেন ব্যবহার করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার সহ-ধর্মিনী গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তার রয়েছে নাকি ব্যপক প্রভাব। অফিস সহকারি ২ বছর পূর্বে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কালিহাতিতে যোগদান করে দলিল লেখক সমিতি ও তার কার্যালয়ের মোহরারদের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহনের সিন্ডিকেট তৈরি করে জমি ক্রেতাদের কাছ হতে দলিল প্রতি ৫ হাজার টাকা করে নগদ গ্রহণ করে দলিল রেজিষ্ট্রি করে যাচ্ছেন। টাকা ছাড়া কোন প্রকার দলিল রেজিষ্ট্রি হচ্ছে না বলে সরেজমিনে ওই কার্যালয়ে গিয়ে জানাগেছে। তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়- সুভাষ চন্দ্র পালের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের (হামিদপুরে) হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন যাবৎ টাঙ্গাইলের সখিপুর এবং বর্তমানে কালিহাতী থানায় দায়ীত্ব পালনকালীন সময়ে নিজেকে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও ঘুষ গ্রহনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। তার রয়েছে দুর্দান্ত প্রভাব। তার প্রভারের কারনে সাব-রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ের সকল কর্মচারীরা আসহায় হয়ে পরেছেন। সুভাষ চন্দ্র পালকে তার চাহিদা মোতাবেক ঘুষ না দিলে দলিল রেজিষ্ট্রারের টেবিলে দেয়া হয় না বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ রয়েছে। তার ঘুষ গ্রহনের কারনে কালিহাতি দলিল লেখক সমিতি ও ভূমি ক্রেতারা অসহায় হয়ে পড়েছে। ওই কার্যালয়ে প্রতিদিন কোটি টাকার জমি বেচা-কেনা হচ্ছে। সুভাষ চন্দ্র পালের সিন্ডিকেটের নিকট দাতা- গ্রহীতারা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়- ষ্ট্যাম্প সহ ব্যাংক ড্রাফট এবং দলিল লিখকের ফি ছাড়াও যেকোন প্রতিটি দলিল হতে সুভাষ চন্দ্র পালকে ৫০০০/- টাকার পরও দলীল গ্রহীতাদের গুনতে হচ্ছে আরো অতিরিক্ত ১১শ টাকা। তথ্যানুসন্ধানে আরো জানাযায়- সাব-রেজিষ্টার মোঃ শহিদুল ইসলাম ও অফিস সহকারি সুভাষ চন্দ্র পাল চাকুরী জীবনে ঘুষ গ্রহণ করে অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাাকার মালিক হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :