কালীগঞ্জে ঝড় বৃষ্টির কবলে কৃষকের স্বপ্ন এখন মাঠে ভাসছে

টিপু সুলতান,কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের গ্রামাঞ্চালের মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার মহা উৎসব। কৃষকদের ভাষ্য, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাধ সেধেছে বৃষ্টি।

প্রায় প্রতিদিনই ঝড় বৃষ্টির কবলে বাম্পার ফলনের আশা ফিকে হয়ে আসছে। ইতিমধ্যে অনেক গ্রামের মাঠে মাঠে পাকা ধান কেটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ঝড় ও বৃষ্টির পানিতে মাঠে কেটে রাখা ধান তলিয়ে ও মাটিতে শুয়ে পড়েছে।

এমন অবস্থায় ধান ঘরে তুলতে না পারলে মহাবিপাকে পড়বেন কৃষকেরা। এদিকে আবার ধান কাটা শ্রমিক নিয়ে মরার উপর খাড়ার ঘা দেখা দিয়েছে। অনেক গ্রামেই শ্রমিক সংকট থাকায় বর্তমান প্রতি শ্রমিককে দিনমজুরী ৩ শত টাকার বদলে ৬ থেকে ৭ শত টাকা করে দিতে হচ্ছে।

এছাড়াও মাঠে মাঠে পানি জমে যাওয়ায় ধান বাড়িতে তুলতে পাওয়ার টিলারের বদলে গরু ও ঘোড়ার গাড়িরও কদর বেড়ে গেছে। তারাও সুযোগ মত ডাবল টাকা খরচা আদায় করে নিচ্ছে। সব মিলিয়ে ঝড় বৃষ্টির কবলে এবার কৃষকের বাম্পার ফলন সোনালী ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে।

সরেজমিনে বৃষ্টি ঝড়ের কবলে পতিত বিভিন্ন মাঠে গিয়ে ও কৃষকদের সাথে কথা বললে সুখলাল ও বাবুল হোসেন নামে দু’কৃষক জানায়, এখন ধান কাটার পুরো মৌসুম। কিন্তু প্রতিদিনই ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে।

গত কয়েক দিনের পানিতে তাদের মাঠের কাটা ধানে পানি জমে গেছে। এতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও কৃষকরা আরো জানায়, ধান কাটা শ্রমিক সংকট ও বাড়ীতে ধান নেওয়ার খরচও দ্বিগুন বেড়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪ হাজার ৩’শ ২০ হেক্টোর। কিন্ত চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ৩’শ ২০ হেক্টোর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর কৃষি বিভাগের মাঠকর্মিরা বোরো মৌসুম শুরু থেকে বাড়তি নজর রেখেছেন। যে কারনে এবছর ক্ষেতে অন্য বছরের তুলনায় অনেক ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :