কাল রহমতের পঞ্চম দিন

হাফিজুর রহমান

রমজান মাসকে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতে ভাগ করা হয়েছে। কাল রহমতের পঞ্চম দিন। এই পঞ্চম দিন পর্যন্ত আমরা আল্লাহ কাছে কি রহমত বা দয়া কামনা করেছি? রমজান- ত্যাগ, ধৈর্য্য, নিজেকে বদলে ফেলার শিক্ষা দেয়। উপবাস করে আমরা ত্যাগের পরীক্ষা দেই, ইফতার পর্যন্ত অপেক্ষা করে ধৈর্যের পরীক্ষা দেই, নিষিদ্ধ কাজগুলো করি না। আজ আমরা সবাই অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে রোযা পালন করে থাকি। অর্থাৎ যথারীতি পানাহার ও জৈবিক লালসা চরিতার্থ থেকে বিরত থাকি। যা মূলত বৈধঃ। কিন্তু যা মানুষের ঈমানে-আমলে ঘাটতী ঘটায়, আমল করা থেকে অমনযোগী করে ফেলে তা আমরা মোটেই পরিত্যাগ করতে পারি না। অনেকে রোযা রেখে কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, যিকির-আযকারে সময় না কাটিয়ে অশ্লীল ফিল্ম ও গান বাজনা, খেলাধুলা ইত্যাদি নিয়ে মগ্ন থাকেন। যা শুধু রমজান মাসেই নয়, বছরের যে কোনো সময়ই মুসলমানের জন্য কাম্য নয়। এ প্রসঙ্গে মহানবী সা. যে দু’জন মহিলার একদিনের রোযা সম্পর্কে বলেছিলেন যে, ওরা হালাল বস্তু বর্জন করে রোযা রেখেছিল বটে কিন্তু হারাম বস্ত দ্বারা যে রোযা ভেঙ্গে ফেলেছে। উল্লেখ্য যে উক্ত দুই মহিলা রোযা রেখে গীবত করেছিল। মোট কথা রোযার প্রকৃত ফজিলত ও উপকারিতা, পেতে হলে মিথ্যা বলা, গীবত, কুদৃষ্টি, হারাম উপার্জন টিভি, ভিডিও গানের অডিও ইত্যাদি যাবতীয় গোনাহ থেকে বিরত থাকা। প্রিয় নবী সা.বলেন যে, চারটি কাজ রমযান মাসে বেশী করে করবে। দু’টি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং দু’টি কাজ যা পালন না করলে তোমাদের উপায় নেই। প্রথম দু’কাজ যা দ্বারা আল্লাহকে খুশি করবে ১. কলিমা তাইয়্যেবা ২. আস্তাগফিরুল্লাহ। দ্বিতীয় দু’কাজ আল্লাহর নিকট বেহেশতের প্রার্থনা করা হযরত উসমান রা. হতে বর্ণিত নবী করীম সা.বলেন যে তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বশ্রেষ্ট যিনি কোরআন শরীফ নিজে শিখেছেন এবং অপরকে আল কোরআনের শিক্ষা দিয়েছেন। অতএব রমযান মাস কোরআন নাযিলের মাস আর জিকিরের মধ্যে সর্বোত্তম জিকির হলো কোরআন তেলাওয়াত করা। তাই আসুন আমরা এগুলো নিয়ে আমল করি। আল্লাহ যে জ্ঞান দান করেছেন তা দিয়ে ভালো কিছু ভাবি এবং করি। নিজের জন্য, পরিবারের সদস্যদের জন্য, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ কামনা করি। নিয়মিত কোরআন পড়ব, তার আলোকে সত্যের পথে জীবন গড়ব এবং চলার পথে ভালো কিছু দেখব। মুখ দিয়ে অশ্লীল শব্দ বের করবো না। বিনয়ের সঙ্গে সবার সঙ্গে কথা বলবো, সে যদি অফিসের বস হন, অফিসের নিম্ন কর্মচারী হন, পথের কোন গরীব মানুষ হন এবং কোন অমুসলিম হন। হাত দিয়ে ভাল কাজ করবো, প্রতিবেশির সাহায্যে এগিয়ে যাব, পথেঘাটে দুর্বলদের সহযোগিতায় লেগে যাব। পা দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজের বিছানায় এগিয়ে যাব। কর্মস্থলে বেশি কাজ করার নিয়তে যাব এবং আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশির কেউ যদি অসুস্থ থাকে তাকে দেখতে যাব। মন দিয়ে শুধু আল্লাহর রহমত কামনা করতে থাকবো, যেন তার রহমত থেকে আমাদের বঞ্চিত না করেন। দান করতে ভুলবেন না, তবে নিজে পিছিয়ে পড়বেন। রমজানের দানে ৭০ থেকে ৭০০ গুণ বেশি পূণ্য। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন।

আপনার মতামত লিখুন :