কিশোরগঞ্জে ঝড়ে গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে রাতে বয়ে যাওয়া ঝড়ে একজন নিহতসহ বোরো জমি ও ভুট্টার ফসল, ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের খুটি, গাছপালার বিপুল সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৫ ঘটিকা হতে রাত সাড়ে ১০ ঘটিকা পর্যন্ত জেলার সকল উপজেলায় ঝড়ো হাওয়া ও গরম বাতাস (৩৪ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড) বয়ে যায়। ঝড়ে তেরটি উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সোমবার (৫ এপ্রিল ) রাতে জেলাটির অধিকাংশ এলাকায় প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে প্রবল ঝড় ও প্রায় ৩০ মিনিট সময় ধরে বৃষ্টির সঙ্গে গরম হাওয়া বয়ে গেছে। এতে জেলা শহরসহ তেরটি উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে ও সড়কের আশেপাশে গাছ গাছালি ভেঙে পড়ে রাস্তার ওপর। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। কালবৈশাখীর তান্ডবে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া এসব ধানী জমি দেখে মনে হবে কাশফুল! বাস্তবে তা নয়। কালবৈশাখী ঝড়ের গরম বাতাসে ধান পুড়ে এমন আকার ধারন করেছে বলে জানা গেছে। ঝড়ের কবলে পড়ে জেলা সদরের মহিনন্দ ইউনিয়নের মহিনন্দ ভাস্করখিলা মিছবাহুল উলুম মাদরাসার ছাত্র হাফেজ সাফায়াতুল্লাহ (১৮) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিহত হয়েছেন। তিনি সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাষ্করখিলা গ্রামের আব্দুল গাফফারের ছেলে।

মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাও.আশরাফ আলী জানান, নাহুমীর জামাতের (৭মশ্রেণীর) ছাত্র হাফেজ সাফায়াতুল্লাহ সন্ধ্যার পর ঝড়ের সময় মাদ্রাসার টয়লেটে যান। এ সময় একটি রেইনট্রি গাছ ভেঙ্গে টয়লেটের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাতেই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান ও মহিনন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মনসুর আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গতকাল সোমবার সকাল ১০ ঘটিকায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে জানাজার নামাজশেষে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষি অফিসার মোঃ জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, গত রোববার বিকেলে থেকে রাত অবধি বয়ে যাওয়া ঝড়ের প্রকোপে সদর উপজেলার সকল স্থানে গরম ঝড়ো হাওয়ায় দূর্যোগের ফলে ২ একর ৩ শত ৪৮ হেক্টর ভুমির বোরো ধান, ৬ একর জমির ভুট্টার ফসল ও ১১ একর জমির সবজির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি এলাকা পরিদর্শন করে জরিপ কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাঃ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ঝড়ে ৫টি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও কিছু ট্্রান্সমিটার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোঃ আশেক পারভেজ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ ছাইফুল আলমের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫ ঘটিকা হতে রাত সাড়ে ১০ ঘটিকা পর্যন্ত জেলার সকল উপজেলায় ঝড়ো হাওয়া ও গরম বাতাস (৩৪ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড) বয়ে যায়। ঝড়ো হাওয়া ও গরম বাতাসে পরাগায়ন ও গর্ভধারণ ব্যাহত হওয়ায় জেলায় সর্বমোট ৯ হাজার ৫ শত ৩৭ হেক্টর বোরো জমিনের ধানে চিটা হয়েছে। এছাড়া ১৪ হেক্টর জমিনে ভুট্টার ফসল এবং ১১ হেক্টর জমিতে সবজির ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :