কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৮৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

আব্দুর রাজ্জাক, কুষ্টিয়া

একুশে ফেব্রুয়ারি সমস্ত বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত। বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসাবেও চিহৃত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিত আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাই এ দিনটিকে শহীদ দিবস হিসেবে চিহৃত হয়ে আছে। দিনটি উপলক্ষ্যে সকল ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা ও স্মরণে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হলেও কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কলেজসহ মোট ২৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো শহীদ মিনার। তবুও প্রতিবছরই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা কলাগাছ, কাপড়, বাঁশের কঞ্চি, বেঞ্চ, টেবিল, রঙিন কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে পালন করে মাতৃভাষা দিবস। শ্রদ্ধা জানায় ও স্মরণ করে ভাষা শহীদদের। চলছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি । এমাসের কর্মসূচি উপলক্ষে উপজেলাব্যাপী শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তেমন কোনো আয়োজনও নেই। যদিও গত বছরের ১৬ মার্চ থেকে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ রয়েছে। জানা গেছে, উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৪৭ টি। এর মধ্যে ১২৫ টি বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার। মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ রয়েছে মোট ৮৩ টি। তন্মধ্যে ৫৮ টিতে নেই শহীদ মিনার। এবিষয়ে উপজেলার লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন ১৯৩২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও ফান্ড না থাকায় নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। প্রতিবছর বেঞ্চ, টেবিল,রঙিন কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানায় ও স্মরণ করি। কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ বলেন, ব্যক্তিগত ও জেলা পরিষদের অর্থায়নে বিভিন্ন সময়ে ২৫ টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। তবে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি সে সব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছি। বরাদ্দ পেলে তারা দ্রুতই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। কুমারখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জালাল উদ্দীন বলেন,কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায়য় গত বছরের ২৭ সেপ্টে¤॥^র শহীদ মিনার নেই এমন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তালিকা করা হয়েছে। সারাদেশে একই রঙ ও আকৃতির শহীদ নির্মাণ করা হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুতই এসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, ‘সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা সফল হয়নি। আশা করি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :