কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টা বিচারের আশ্বাস কৃষি মন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার
ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) পরিচালকের কক্ষে থাকা সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক দৈনিক আমাদের কণ্ঠ’র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মো. শহিদুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে অপহরনের ব্যর্থ চেষ্টা করে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিচালক ড.মো.আবদুল মোত্তাকিনের কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক ওই ঘটনায় উদ্ধেগ প্রকাশ করেছেন । মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএআরসির অভ্যন্তরে যে সকল কর্মকর্তার সাথে সন্ত্রাসীর সখ্যতার প্রমান মিলবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

বিএআরসিতে ঠিকাদার সাহা রাজ সেখানে নিজস্ব অফিস বানিয়েই সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আড্ডা দেয়। বড় কর্মকর্তাদের কক্ষেও নিয়মিত বিচরন করেন। পরিচালকসহ বড় বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার রয়েছে গভীর সখ্যতা। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি কাজের কমিশনের ভাগ পাওয়া ওই সব কর্মকর্তারাই সাহারাজের শেল্টারদাতা। তাই সাহা রাজ যে কোনো কর্মকর্তার রুমে বিচরন করেন অনায়াসেই। ওই সময় বোঝার উপায় নেই কে কর্মকর্তা কে বহিরাগত। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিএআরসিতে অফিস বানানো এবং সন্ত্রাসীদের অবস্থান বিষয়ে সম্প্রতি ‘দৈনিক আমাদের কন্ঠে’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অপর একটি তথ্যের সত্যতা যাছাই করতে ‘দৈনিক আমাদের কন্ঠে’র সিনিয়র রিপোর্টার মো.শহিদুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএআরসি কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের কাছে যান। কিন্তু চেযারম্যান নিজের কক্ষে না থাকায় প্রতিবেদক দারস্থ হন পরিচালক ড.মো.আবদুল মোত্তাকিন। তিনি ওই পরিচালকের রুমে যান। এ সময় পরিচালকের কক্ষে অবস্থান করছিলেন বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। এর মধ্যে একজন সাহা রাজ।

প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে পরিচালকের কাছে একটি বিষয়ের তথ্য জানতে চান। জবাবে পরিচালক বলেন, রোববার পরিচালকের কাছ থেকে এ বিষয়ে জানতে হবে। তিনি ওই দিন প্রতিবেদককে বিএরআরসিতে যেতে বলেন। এ সময় প্রতিবেদক পরিচালকের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অফিস কক্ষ ত্যাগ করেন। প্রতিবেদকের নাম শহিদুল ইসলাম জানার পরেই তার পিছু নেন সাহা রাজ সহ কয়েকজন সন্ত্রাসী। এ সময় শহিদুল ইসলামকে তারা বিভিন্নভাবে নাজেহাল করেন। তারা শহিদুল ইসলামকে অপহরনের চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানের সিকিউরিটি ইনচার্জ আবু হাসিম মোস্তাফা কামালের একান্ত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসীদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শহিদুল কোনোভাবে সেখান থেকে প্রাণে রক্ষা পান। এর পর সোজা চলে যান তেজগাঁও থানায়। এ ব্যাপারে তখনই একটি সাধারন ডাইরি করা হয়। নং ১৪৮৯। জিডির তদন্তকারি কর্মকর্তা একই থানার এএসআই মোফাজ্জল হোসেন বলেন, তিনি ঘটনার পরদিন অথ্যাৎ শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শুক্রবার বন্ধ থাকায় হয়তো ওই দিন সন্ত্রাসীরা সেখানে আসেনি। তবে বিষয়টি গুরুতে¦র সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :