কেরানীগঞ্জে পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়ে ব্যবসায়ীর মালামাল লুট

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ভয়ঙ্কর এক প্রতারণা ও চাঁদাবাজি চক্রের সন্ধান মিলেছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি গণপরিবহন থামিয়ে প্রকাশ্যে এক ব্যবসায়ীর মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার পর তা ফেরত দেওয়ার শর্তে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ আমিনুল ইসলাম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র আলোড়ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ ভোরে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের পলি, প্রসাধনী সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য একটি গণপরিবহনে করে পরিবহন করছিলেন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গাড়িটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়িটি থামান।এরপর তল্লাশির কথা বলে গাড়িতে থাকা মালামাল নামিয়ে অন্য একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আমিনুল ইসলাম প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা নিজেদের কখনো পুলিশ, আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে বলে অভিযোগে উলে­খ করা হয়েছে।ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর অনুসন্ধান চালিয়ে ধারন করা ভিডিও দেখে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা ফয়সাল হাওলাদার ও ইস্পাহানী ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মালামাল ফেরত দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মালামাল আর ফেরত দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফয়সাল হাওলাদারের বসত এলাকায় টুন্ডা ফয়সাল নামে পরিচিত। তিনি জিয়া নগর এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কখনো ডিবি পুলিশের সদস্য, কখনো প্রশাসনের কর্মকর্তা, আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কারখানা ও দোকানপাটে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন।জিয়া নগরের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টুন্ডা ফয়সালের বিরুদ্ধে আগেও নানা ধরনের প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তবে রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তি ইস্পাহানী ইমরান সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, তিনি কিছুদিন আগেও বিভিন্ন স্থানে সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং চাঁদাবাজির চেষ্টা করেন।আব্দুল্লাহপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভাওয়াভিটির বোরহানউদ্দিনের ছেলে ইস্পাহানী ইমরানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মাদক মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশও অন্য একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে এলাকাবাসীর দাবি।ঘটনার পর ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়ে ছিনতাই এবং চাঁদা দাবির একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় ব্যবহার করে যদি কোনো চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি বা লুটপাটের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা দ্রæত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ

বিজ্ঞাপন