খুলনায় গৃহবধূ নির্যাতনে মামলা: মামলা তুলতে বাদিকে হুমকি

তরিকুল ইসলাম,খুলনা

খুলনার সোনাডাঙ্গা খানজাহান আলী রোডের শিরিসনগর এলাকায় এক অসহায় নির্যাতিত গৃহবধু বাদী হয়ে তার স্বামী, শশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দাখিল করেছেন। মামলা নং ২৪, তাং ১৯-১১-২০২০ ইং। গৃহবধু উম্মে কুলসুম রুমা মামলা করার পর স্বামী মো. মেহেদী হাসান মিলন (৩২) কে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। বাকী আসামী শশুর মো. আব্দুস সালাম শেখ (৫৫) ও শাশুড়ী মোছা. তাসলিমা বেগম (৪৮) আদালতে আতœসমার্পণ করে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু জামিনে মুক্তি পেয়ে আসামী এবং তাদের আতœীয় দ্বারা মামলা করা হয়েছে বলে বাদী পক্ষকে হুমকি ধামকি অব্যহত রেখেছেন। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানাযায়, ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের রহিমনগর গ্রামের শেখ সুবিদ আলীর কন্যা উম্মে কুলসুম রুমার সাথে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ৩৪৪, খানজাহান আলী রোড শিরিসনগর গেট এলাকার মো. আব্দুস সালাম শেখের পুত্র মো. মেহেদী হাসান মিলনের সাথে ইসলামী শরীয়াত মোতাবেক বিবাহ হয়। বিবাহের সময় রুমার পিতার বাড়ি থেকে স্বামী মিলনকে সংসারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র উপহার স্বরুপ দেওয়া হয়।

বিবাহের পর এই ঘরে আহনাফ হোসাইন নামের একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান জন্মগ্রহন করেন। যার বয়স ৪ বছর। সংসারে কিছুদিন ভালো থাকার পরে আসামীরা যৌতুকের টাকার দাবীতে কারনে-অকারনে স্ত্রী রুমাকে নির্যাতন করতে থাকে। ।একপর্যায়ে একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে পিতার কাছ থেকে একটি ডাম্পার ট্রাক্টর ক্রয়ের জন্য স্বামী ও শশুর-শাশুড়ীকে ৬ লক্ষ টাকা এনে দেয়া হয়। পরে পুনরায় পিতার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপসৃষ্টি করে। তখন গৃহবধুর পিতার পক্ষে আর দেওয়া সম্ভব না বলে উক্ত আসামীদেরকে বুঝিয়ে বলা হলেও তারা কোন কর্ণপাত করেনি। বরং আসামীরা সকলে একত্রিত হয়ে গৃহবধু রুমার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পর চলতি বছরের ১২ নভেম্বর নিরুপায় হয়ে রুমার পিতা মাতাকে স্বামীর বাড়িতে খবর দিয়ে আনা হলে তাদের উপস্থিতিতে আলোচনার একপর্যায়ে আসামীরা ৩ লক্ষ টাকা দাবী করে। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির গ্রীলে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কেউ বাহিরে বের হতে না পারে। এমনকি লোহার রড ও বটির আছাড় দিয়ে পায়ে-হাতে, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। পরে গৃহবধু রুমাকে তার পিতা-মাতা আসামীদের নিকট থেকে উদ্ধারের চেস্টায় ব্যর্থ হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে তাৎক্ষণিক পুলিশ এসে গৃহবধু রুমাসহ তার পিতা-মাতাকে উদ্ধার করে। পরে রুমার পিতা-মাতা তাকে পুলিশের সহযোগীতায় শশুরবাড়ি থেকে আহত অবস্থায় খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে হাসপাতাল থেকে সুস্থ্য হয়ে আসার পর গৃহবধু রুমা রূপসা থানাধীন জয়পুর গ্রামস্থ তার বড় বোনের বাড়িতে আসেন। এদিকে জামিনে মুক্তি পেয়ে তার শশুর-শাশুড়ী ২৮-১১-২০২০ ইং তারিখে রূপসা এলাকায় এসে তাদের আতœীয়-স্বজন দ্বারা বেলা ১১ টায় মামলা উঠিয়ে নেওয়া সহ মারপিঠ এবং খুন জখমের হুমকি-ধামকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় জামিনকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে গৃহবধু উম্মে কুলসুম রুমা রূপসা থানায় একটি জিডি করেছেন। যার নং ১১৬০, তারিখ- ৩০-১১-২০২০ ইং। এখানেই আসামীরা ক্ষান্ত নয়, একমাত্র পুত্র সন্তান আহনাফ হোসাইনকে অপহরণ করে বাদী পক্ষকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণি করা ও ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে গৃহবধু উম্মে কুলসুম রুমা জানিয়েছেন।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :