গোদাগাড়ীর পদ্মায় নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবস্থা নেয়া হবে: এডিসি রেভিনিউ

রাজশাহী প্রতিনিধি

সরকারি নীতিমালা অমান্য করে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা নদী থেকে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এছাড়া বালু কারবারের আড়ালে একই স্থানে নিয়মিতভাবে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনও চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী-পদ্মা নদীর তীর থেকে এক হাজার পাঁচশ’ মিটার থেকে দুই হাজার মিটার দূরত্বে বালু উত্তোলন করার কথা। কিন্তু লীজ গ্রহীতারা (ইজারাদার) এই নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করে ফুলতলা (সেখেরপাড়া-অবদা) এবং প্রেমতলী বালু ঘাট সংলগ্ন নদীর তীর থেকে প্রায় পাঁচশ’ মিটার দূরত্বে মাটি-বালু উত্তোলন করছেন। নদীর গতিপথ তথা পানি প্রবাহ বন্ধ করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। আর তার পাশ থেকেই মাটিও বালু উত্তোলন করে সেই রাস্তা দিয়ে ট্রাকে করে মাটি নেয়া হচ্ছে ইটভাটায় ও বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বালু । এতে করে বর্ষা মৌসুমে নদী তীরবর্তী এলাকার বসতবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দারা লীজ গ্রহীতাদের ভয়ে কোনো কথা বলতে পারেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গত বৃহস্পতিবার এডিসি রেভিনুউ মোঃ নজরুল ইসলাস বলেন, গোদাগাড়ীর দু’টি বালু ঘাটে নিয়মবহির্ভুত ভাবে বালু ত্তোলনের বিষয়টি আমি জেনেছি। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকায় স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেই সকল পেপার গুলিও আমি পেয়েছি। খুব শিঘ্রই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কতরা হবে বলেও এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, সরকারি নীতিমালা অমান্য করে বালু উত্তোলন এবং বালু কারবারের আড়ালে একই স্থানে নিয়মিতভাবে মাদক কারবারীরা মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন করে আসছেন- এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত (১ ডিসেম্বর) রোববার দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে যান বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকের আটজন সাংবাদিক। এসময় ইজারাদারের ইন্ধনে কনক, শরিফুল ইসলাম ডিকেন, সেলিম ও শিমুলের নেতৃত্বে অন্তত ৩০-৩৫ জন সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং মারমুখি আচরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা একজন ফটো সাংবাদিকের ক্যামেরা কৌশলে হাতে নিয়ে ছবি মুছে দেন। এছাড়া সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলেন, সাড়ে চার কোটি টাকা দিয়ে বালুঘাট ইজারা নিয়েছি। এ ব্যাপারে কোনো নেগেটিভ নিউজ করলে প্রাণে মেরে ফেলব বলে হুমকি দেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাতেই সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে গোদাগাড়ী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি মো: খলিলুর রহমান পাটোয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গোদাগাড়ীর এই দুটি বালুমহালের ইজারা নিয়েছেন দুইজন ইজারাদার। তারা হলেন- রাজশাহীর পবার হরিপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ও হড়গ্রাম এলাকার মনোয়ারুল হোসেন। এরমধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ফুলতলা (সেখেরপাড়া-অবদা) বালুঘাট এবং মনোয়ারুল হোসেন প্রেমতলী বালুঘাট ইজারা নিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বালুঘাট সংলগ্ন নদী তীরবর্তী সড়ক থেকে অন্তত চারশ’ থেকে পাঁচশ’ মিটার দূরত্বে একটি বাথান (শোয়া-বসার স্থান) রয়েছে। এই জায়গাটি বালু মহালের লোকজন তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। কিন্তু এর পাশাপাশি সেখানে মাদক কারবারীরা ও এক শ্রেণির লোক নিয়মিতভাবে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বহু আগে থেকেই সীমান্তবর্তী এই উপজেলার ফুলতলা (সেখেরপাড়া-অবদা) এবং প্রেমতলী বালু ঘাট সংলগ্ন এলাকাসহ অধিকাংশ এলাকা মাদকপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। মাদক কারবারীরা এই দুটি বালু ঘাটও ব্যবহার করছে মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে। ফেনসিডিল, ইয়াবা, হোরোইন, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদকের কারবার চলে এই এলাকা ঘিরে। এটি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট ও তরুণ-যুব সমাজের বিপথগামী হওয়ার আশংকা রয়েছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :