ঘরে ঘরে জ্বর : দিশেহারা সাধারণ মানুষ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

মো.ইউসুফ আলীঃ

সপ্তাহ দুই আগে জ্বরে আক্রান্ত হন সহ-কর্মী সাংবাদিক হাসিবুল। ৩-৪ দিন জ্বরে ভোগার পর পরিস্থিতি একটু উন্নতির দিকে যেতে না যেতেই জ্বরে আক্রান্ত হয় তার পাশের সিটের আরেক সহ-কর্মী সাংবাদিক অমিত হাসান। তাদের দুজনকেই প্রচন্ড জ্বর-বমি ও শরীর ব্যাথায় কাবু করে ফেলে। এদের প্রায় সবারই মাথাব্যথা, সর্দিকাশি, বমি হওয়া, গলা ব্যথা, চোখ লাল হওয়া ও পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ রয়েছে। কিছু খেতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু আতঙ্কে একে একে সবারই রক্ত পরীক্ষা করানো হয়েছে। কিন্তু টেস্ট রিপোর্ট অনেকেরই নেগেটিভ দেখালেও শরীর ব্যাথা-মাথাব্যাথা ও বমি হওয়ায় লক্ষণ অনেকটা চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু-করোনার মতই মনে হয়। গত কয়েক দিন রাজধানী ও তার আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। হাসপাতালের বহির্বিভাগে রয়েছে রোগীর স্বজনদের দীর্ঘ লাইন। ক্লান্তিতে অনেককে মেঝেতে বসে রয়েছেন। চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগেরই জ্বর, মাথাব্যথা, পেটে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসকদের চেম্বার ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোতে জ্বর নিয়ে আসা রোগীর ভিড় চোখে পড়েছে ব্যাপক। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বর হলেই ডেঙ্গু আতঙ্কে পরীক্ষা করাতে আসছেন তারা। ডেঙ্গু তুলনামূলক বেশি প্রাণঘাতী ভেবে তারা কোন প্রকার ঝুঁকি নিতে নারাজ। এদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, তিন থেকে সাত দিন জ্বর-সর্দি-কাশির তীব্রতা থাকছে। পরীক্ষায় কিছু মানুষের ডেঙ্গু ধরা পড়লেও বেশির ভাগই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্ত। একসঙ্গে পরিবারের একাধিক সদস্যও জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছে। এতে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার কথা বলছেন তারা।
তবে অভিযোগ আছে, নগরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। মাঝে মাঝে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা স্প্রে করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে বাড়ছে এডিস মশা। যে কারনে সারা দেশেই ঘরে ঘরে জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এক পরিবারে চারজন সদস্য থাকলে সেখানে তিনজনই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরাও। জ্বরের সঙ্গে আছে সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা। তবে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু জ্বর হওয়ার পর অনেকেই ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে ভোগেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ বলছেন,এ জ্বরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বৃদ্ধ, জটিল রোগী এবং শিশুরা । এ ছাড়া ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হয়েও অনেকের জ্বর আসছে। চিকিৎসকরা এটিকে ভাইরাস জ্বর, ভাইরাল ফিভার বা সিজনাল ফ্লু হিসেবে দেখছেন। কেরাণীগঞ্জের আগানগর ইস্পাহানী এলাকার এলাকার বাসিন্দা শামিমা বলেন, আমাদের ঘরে চার সদস্য। এর মধ্যে চারজনের শরীরেই জ্বর। কারও তিন দিন, কারও দুই দিন। সবাই চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করছেন। কাউকে হাসপাতলে যেতে হয়নি। তবে দু’তিন দিনের মাথায় জ¦র সেড়ে গেলেও শরীর ব্যাথা যায়নি এখনও এমন মন্তব্য তার। কেরাণীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো.মোকাদ্দেছ আলী জানান,তার নিয়ন্ত্রনাধিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এ সংক্রান্ত রোগির চাপ আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। তবে তারা সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা প্রদানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরো বলেন, যেহেতু এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং এটি এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়, সেহেতু মশার কামড় থেকে নিজেদের রক্ষা করা এখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ডা. শাহিনূর রহমান খান শাওন বলেন, এখন ডেঙ্গু ,চিকুনগুনিয়া,করোনা এবং সিজনাল ফ্লুর জ্বর একসঙ্গে সবাইকে আক্রান্ত করছে। তিনি বলেন,অনেক ক্ষেত্রে অনেকের পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও লক্ষণ কিন্তু একই মনে হয়। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন,রাতে মশারী টানিয়ে ঘুমাতে হবে এবং সবসময় বাড়ীঘর ও তার আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি জ্বর হলেই যেন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করেন। একইসাথে বেশী বেশী তরল,জুস,ওরস্যালাইন খাবেন। এক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক কম খাবেন । তবে প্যরাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। পাশাপাশি এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে বলেও জানান ডা.শাহিনূর রহমান খান শাওন ।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ