চট্টগ্রামে তরুণের রহস্যজনক মৃত্যু পুলিশ বলছে আত্মহত্যা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ বাদামতলী বড় মসজিদ গলিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে সালমান ইসলাম মারুফ (১৭) নামে এক তরুনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে তরুনটি আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ডবলমুরিং থানার সাদা পোষাকে পুলিশের সাথে মাদক বিক্রেতা সন্দেহে আগ্রাবাদ বাদামতলী বড় মসজিদ গলির এক ছেলের সাথে বাকবিতন্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই আত্মহত্যা করে ঐ তরুনটি। তবে স্থানীয়দের দাবী পুলিশের নির্যাতনেই ঐ ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তবে ডবলমুরিং পুলিশ থানার পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে সাদা পোষাকে অভিযানে গিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অজ্ঞাতনামা একজন লোক পুলিশকে দেখে দৌঁড়ে পালায়।

গলির ভিতরে দৌঁড়ে যাওয়া লোকটিকে অনুসরণ করতেই গলির ভিতরে পুলিশ প্রবেশ করলে কতিপয় অজ্ঞাতনামা মহিলা কর্তব্যরত এসআই হেলালের উপর হামলা করে। মারধর করে পুলিশকে জামা-কাপড় ছিড়ে ফেলে। ঘটনাস্থল থেকে ডবলমুরিং থানার অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে এসআই হেলালকে উদ্ধার করে। ঘটানাস্থলে পুলিশ ও আক্রামনকারীদের হতাহাতিতে রুবিনা বেগম (৪৫) নীহা (২০) অসুস্থ্য হয়ে পড়লে পুলিশ তাদের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। কিন্তু এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই মারুফকে খোঁজতে থাকে পুলিশ। এ অবস্থায় পাশের একটি ঘরে তল্লাশী চালাতে গেলে সেখানে গলায় ফাঁস লাগানো মারুফের লাশ পাওয়া যায় বলে স্থানীয় প্রত্যোক্ষদর্শীরা জানান।

এদিকে এলাকাবাসীরা জানান, মাদক বিক্রেতা সন্দেহে মারুফের মা ও বোনকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে এ অপমান সহ্য করতে না পেরে পাশের বাসায় গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মারুফ। এ ব্যাপারে সিএমপি উপ-কমিশনার (পশ্চিম) ফারুকুল হক বলেন, সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতার মা ও বোন অজ্ঞানের ভান ধরে, তারপর তাদের পুলিশ সদস্য আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ঐ দিন রাতে ডবলমুরিং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পরে পুলিশ মারুফের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।

এদিকে এলাকাবাসীরা জানান, পুলিশ মা ও বোনকে গ্রেফতার কর নিয়ে এ অপমান সইতে না পেরে পাশের বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মারুফ। সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। তবে একাধিক সূত্র মতে জানা যায়, পুলিশ যাকে সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতা হিসেবে ধাওয়া করছিল সে সালমান ইসলাম মারুফ কিনা সে বিষয়ে সন্দীহান। এ ঘটনার পরে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন :