চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

গত দু’দিনের টানা অবিরাম বর্ষণে চট্টগ্রামের নগরীর অধিকাংশ ওয়ার্ডে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যস্ততা। সড়ক, নালা পানি নিষ্কাশনের অনুপযোগী হয়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদ, এক্সেস রোড, নিমতলা বিশ্বরোড, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, বন্দর, পতেঙ্গা, ইপিজেড, বায়োজিদ, অক্সিজেন এর প্রধান সড়কগুলো অতিবৃষ্টির কারণে ডুবে গেছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানান, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর এখন উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে । দেশের নদী বন্দরগুলোর উপরও পড়েছে ১ নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত দেখানোর নির্দেশনা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, ‘মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। দেশের সকল সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত এবং নৌ বন্দরে ১ নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকল নৌযানকে সাবধানে উপকূলবর্তী স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।’ পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে। কোনো কোনো জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে বাতাসের গতিবেগ থাকবে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার।

অন্যদিকে সামনে ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গরুর বাজারের আয়োজনের সব ব্যবস্থা থাকলেও বৃষ্টির কারণে আয়োজকদের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। এদিকে, ভারী বর্ষণে অফিসগামী ও গার্মেন্টস্ এর সাধারণ শ্রমিকরা পড়েছে বিপাকে। রাস্তা-ঘাট, সড়ক, জলাবদ্ধতায় বৃষ্টির পানির খানা-খন্দে ভরে গেছে। ব্যবসা কেন্দ্র মাদারবাড়ী রোড জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় ভারী যান ও গণপরিবহন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নগরীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র রেয়াজউদ্দীন বাজারের প্রায় দোকানপাটে বৃষ্টির পানি ডুকে পড়েছে এবং ব্যবসার নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। বন্দর নগরীর ইপিজেড ও পতেঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়ীতে ও দোকানপাটে বৃষ্টির পানি ডুকে আসবাবপত্র নষ্ট ও গৃহে রান্না করার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। প্রবল বর্ষণের ফলে গণপরিবহনে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুন ভাড়া।

আপনার মতামত লিখুন :