টঙ্গীবাড়ির ফুটপাতের কাপড় বিক্রেতা যখন দলিল লেখক

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

এক সময় মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি বাজারে ঘুরে ঘুরে কখনোবা ফুটপাতে বসে গামছা ও মাছ ধরার জালি বিক্রি করতো জাকির মাদবর (৭০)। নাই তা কোন একাডেমি সনদ। তারপরেও নিজেকে সরকারী লাইসেন্স প্রাপ্ত দলিল লিখক দাবী করে অন্যের সাইনবোর্ডের পাশে নিজের সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত দলিল লেখক লিখে। অন্যকে দিয়ে দলিল লিখিয়ে কামিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। নিজের ব্যবহিত ভিজিটিং কার্ডে লিখেছেন নামজারী জমাভাগ করিয়ে দেওয়া হয় অথচ তিনি ভূমি অফিসের কেউ নয়। ভূয়া দলিল লেখক আর ভূমি অফিসের নামজারী বানিজ্য করে গড়েছেন অগাধ অর্থ। তার ছেলে মাহমুদুল হাসান সরকারী দলিল লিখক হলেও বাবার অবৈধ আয় দেখে নিজে নেমেছেন অবৈধ আয়ে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মাহমুদুল হাসানকে টঙ্গীবাড়ি সাব রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে হইতে এস আই নুরে আলম মিয়া গ্রেফতার করে। জানাগেছে সোনারং গ্রামের মৃত মকিম পোদ্দারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন পোদ্দার একটি জমি তার ছেলে ইব্রাহীম হোসেন পোদ্দারকে হেবা দলিল করে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন দলিল লেখক মাহমুদুল হাসানের মাধ্যমে। কিন্তু তারই কিছু দিন পরে একই সম্পত্তি দলিল লেখক মাহমুদুল হাসান ও দেলোয়ার হোসেন পোদ্দার এর যোগসাজশে মৃত আসলাম পোদ্দারের স্ত্রী নাসিমা বেগম এর কাছে দলিল করে বিক্রয় করেন। নাসিমা বেগম তহসিল অফিসে নামজারী করতে গিয়ে জানতে পারে যে, ওই সম্পত্তি দেলোয়ার হোসেন পোদ্দার আগেই তার ছেলে ইব্রাহীম পোদ্দারকে দলিল লেখক মাহমুদুল হাসানকে দিয়ে হেবা দলিল করে দিয়েছে। পরে আদালতে মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে বেরিয়ে আসে মাহমুদুল হাসান ও তার বাবা জাকির মাদবর এর নানা অনিয়ম আর দূর্ণীতির চিত্র। স্থানীয়রা জানান, জাকির মাদবর আগে টঙ্গীবাড়ি বাজারে ফুটপাতে বসে গামছা, মাছ ধরার জালি ও পুরাতন কাপড় বিক্রিয় করতো। এর পর যে কোন মাধ্যমে টঙ্গীবাড়ি সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেন এর সাথে সহকারী হিসেবে কাজ করে জাকির মাদবর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি না পেরুতে পারলেও প্রতারণামুলকভাবে ছেলের নামের পাসে নিজের নাম সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত দলিল লেখক লাগিয়েছে। দলিল লেখক কিনা জানতে চাইলে জাকির মাদবর বলেন, আমি দলিল লেখক না আমি তাদের সহকারী হিসাবে কাজ করি। আপনি দলিল লেখক না হয়েও দলিল লেখক কেন লেখছে সে জানায় এভাবেই আমার নাম লেখা হয়েছে। তাছারা আমি অত পরা লেখাও জানিনা।

 

আপনার মতামত লিখুন :