টঙ্গীবাড়ীতে টোকেনে নামের জটিলতায় ত্রাণ পেলেননা ৫০২টি পরিবার

সাইফুল ইসলাম,টঙ্গিবাড়ী,মুন্সীগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ত্রান নিতে আসা বানবাসিদের ত্রান ছাড়াই ফেরত পাঠানো হয়েছে। সোমবার সকালে ৫০২ জন বানবাসিকে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সকাল ১০ টার দিকে কামারখাড়া এলাকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৫শত ২টি পরিবারকে সরকারী বিজিএফ এর চাল দেওয়ার কথা ছিলো। সেই অনুযায়ী ভোর থেকেই ত্রান নেওয়ার জন্য কামাড়খাড়া বাজারে জড়ো হয়। এ সময় টঙ্গিবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জগলুল হালদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির হাজির হন। তবে আকস্মিক চাল বিতরণ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ত্রান নিতে আসা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন। এ ব্যাপারে ত্রান নিতে আসা কামাড়খাড়া গ্রামের দিন মজুর আপেল মাহমুদ জানান, আমি আজ দিন মজুরের কাজ না গিয়ে কাজ বন্ধ রেখে চাল নিতে কামাড়খাড়া বাজারে আসি।

অনেক সময় আমাকে দাড় করে রেখে চাল দেওয়া হবেনা বলে অফিসাররা চলে যান। স্থানীয়রা বলেন,করোনার সময় থেকে মহিউদ্দিন হালদার সরকারি সহযোগিতা মানুষের মধ্যে বিতরণ করে আসছে। বন্যার সময়টাতেও তিনি এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ব্যাক্তিগতভাবেও মানুষকে সহযোগিতা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া চাল বিতরণের জন্য মহিউদ্দিন হালদার ¯িøপ তৈরি করেন। সেখানে জগলুল হালদারের নাম ছিলনা। মূলত এ দুজনের স্নায়ু দ্বন্দের কারনে এত গুলো মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ ব্যাপারে কামাড়খাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদার জানান, আমি চালের তালিকা প্রদানকারীদের”পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে শেখ হাসিনার উপহার। দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ” লিখে একটি টোকেন প্রদান করি।

ওই টোকেনে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জগলুল হালদার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার এর নাম না থাকায় তারা চাল বিতরণ বন্ধ করে দেয়। পরে ত্রান নিতে আসা লোকজন বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠলে আমি আমার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ শত ৫০ জনকে চাল কিনে দেই। উপজেলা চেয়ারম্যান জগলুল হালদার বলেন,তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। ¯িøপে নাম দেওয়া নিয়ে আমার আপত্তি নেই। বরং প্রধান মন্ত্রীর উপহার মহিউদ্দিন হালদার নিজের বলে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ¯িøপ দেখেছেন। ইউএনওকে সে ¯িøপ দেখানো হয়। ইউএনওর সিদ্ধান্তে চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, চাল বিতরনের জন্য কোন ¯িøপ দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ¯িøপ দেওয়ায় চাল বিতরণ করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিনা আক্তার জানান, সরকারি চাল বিতরনের জন্য যে ¯িøপ ব্যবহার করা হয়,সেটার মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের নাম ও ছবি ছিল। সরকারের উপহারকে নিজের বলে চালাতে চেয়ে ছিল সে। একারণে সোমবার চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার যারা ফিরে গেছেন,তাদের চাল দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :