ডা. জলির ভুল চিকিৎসায় নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগ

…………হাফিজুর রহমান

 

রাজধানীর কমতলী থানাধীন জুরাইনে একটি হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তুলেন জুরাইনের বাসিন্দা মো:আল জাবেদ অভি, তিনি বলেন আমার স্ত্রী মাহমুদা ইসলাম অন্তঃসত্বা থাকাকালীন সময়ে আমি জুরাইন কমিশনার রোডে ল্যাব কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে সেখানকার ডাঃ কাউছার পারভীন জলি আমার স্ত্রী মাহমুদা ইসলামকে দয়াগঞ্জ ইবনেসিনায় নিয়ে যান এবং আলট্রাসনোগ্রাম করে একটি রিপোর্ট দেয়।

 

 

রিপোর্টে বলা হয় প্রসূতি মা ও গর্ভে থাকা সন্তান উভয়েই ভালো আছে। কিন্তু আমার স্ত্রীর শারিরীক অবস্থা অবনতি সহ গর্ভপাতের সময় অতিক্রম হয়ে যাওয়ায় সেই রিপোর্ট উপেক্ষা করে আমি ডাঃ কাউছার পারভীন জলিকে অনুরোধ করি। তিনি গত ৮ ইং জুলাই যাত্রাবাড়ি দোলাইরপাড় সেফ কেয়ার নামে একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও আলট্রাসনোগ্রাম করে এবং ভেকসিন দেয়া সহ মেডিসিন সেবন করায়।

পরবর্তী সময়ে তিনি সিজার করেন এবং আমার সন্তানকে মৃত দেখান পাচঁ ঘন্টা পড়ে। আমাকে ব্লাড যোগার করার কথা বলে পাঠিয়ে দেন। আলট্রাসনোগ্রাম এর রিপোর্টে আমার স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তান মৃত এ কথাটি আমাকে বলা হয়নি। এবং সিজার করার অনুমতিও আমার কাছ থেকে নেয়া হয়নি। ভুল চিকিৎসায় আমার সন্তানকে তারা হত্যা করেছে। আমি ডাঃ কাউছার পারভীন জলির বিরুদ্ধে বিচার দাবী করি।

ভুক্তভোগী মাহমুদা বলেন আমার সন্তানকে ডাঃ কাউছার পারভীন জলিই হত্যা করেছে তার ভুল চিকিৎসায় আমার সন্তানকে হারাতে হয়েছে আমি এর কঠিন বিচার চাই।

ঘটনার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় ডাঃ কাউছার পারভীন জলি, নামে বেনামে একাধীক হাসপাতালে সিজার করার অভিযোগ উঠে। তিনি কখনো ২৮ দয়াগঞ্জ হাটলেন, গেন্ডারীয়া থানাধীন ইবনেসিনার চিকিৎসক পরিচয় দেন। অপরধীকে যাত্রাবাড়ি মেডি বাংলা হাসপাতাল, দোলাইরপাড় সেফ কেয়ার হাসপাতাল, পূর্ব জুরাইন হাজী খোরশেদ রোডে ল্যাব কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সহ একাধীক নামে বেনামে হাসপাতাল গুলোর চিকিৎসক পরিচয় দানকারী অভিযুক্ত ডাঃ কাইছার পারভীন জলি।

এর মধ্যে অনুমোদনবিহীন জুরাইন হাজী খোরশেদ রোডে ল্যাব কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি তার নিজস্ব হাসপাতাল ।

নবজাতকের হত্যাকান্ডের বিষয়ে ডাঃ জলির কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ভুল করেছি তাদের থেকে রিপোর্ট এর বিষয়টি লুকিয়ে রেখে। তবে আমি তাদেরকে সুচিকিৎসা প্রদান করেছি। ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি প্রদান সহ তার কিছুই করতে পারবেনা বলে সেফ কেয়ার হাসপাতাল থেকে চলে জান।

সেফ কেয়ার হাসপাতালের চেয়ারম্যান রাহিমা বেগম বলেন ডাঃ কাইছার পারভীন জলি রিপোর্টটি লুকিয়েছে আমার ল্যাব সঠিক রিপোর্ট ই ধারণ করেছে। ভুল চিকিৎসা তিনিই করেছে তিনি আমার হাসপাতালে কনসালটেশন ডাক্তার।

আপনার মতামত লিখুন :