ডিপিডিসি কর্মচারী মিজানের বিলাসী জীবন সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি

শাহিন চৌধুরী

ভৌতিক বিল- সংযোগ দেয়ার নামে প্রতারনা এবং মিটার টেম্পারিং করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে আজিমপুর ডিপিডিসি বিদ্যুৎ কর্মচারী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে গত ২৫ অক্টোবর দৈনিক আমাদের কন্ঠে ‘আজিমপুর ডিপিডিসি কর্মচারী মিজানের রহস্যময় জীবন’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৫ অক্টোবর সাংবাদিক শাহীন চৌধুরীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ঘটনার দিন বিকেলে শাহীনের মুঠোফোনে মিজান কল দিয়ে এ ধরনের হুমকি দেন। মিজানের ফোন করার কয়েকঘন্টা পর আজিমপুর কলোনী এলাকায় সাংবাদিক শাহিনের মোটর সাইকেল থামিয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মিজানের লোক পরিচয়ে পরবর্তীতে এ ধরনের আর কোনো নিউজ করতে নিষেধ করেন। সাংবাদিক শাহীন এসব বিষয় উল্লেখ করে গতকাল শনিবার মতিঝিল থানায় একটি সাধারন ডাইরি দায়ের করেন। যার নম্বর ১৯৮৩।

পুলিশ ইতিপূর্বে এ বিষয়ে তদন্তে নেমেছে।
উল্লেখ থাকে যে, সামান্য বকেয়া বিলের জন্য বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা, নতুন মিটারের আবেদন করলে মিজানকে অতিরিক্ত ঘুষ দিতে হয়। অবৈধ উপার্জনের মাধ্যমে এ কর্মচারি ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, নিজ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আত্মীয়স্বজনের নামে অনেক সম্পদ করেছেন।
গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, অসাধু চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে আজিমপুর ডিপিডিসি বিদ্যুৎ সমিতির মিজানের অনুসারি মনিরুল ইসলাম ওরফে গ্যাটিস। অথচ এরিয়া অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঐ সব এলাকার বিদ্যুৎ লাইনের আবেদনপত্রটিও অফিসে জমা নেই। আর থাকলেও ছয় থেকে সাত মাস ধরে পরে থাকে মিজানের টেবিলে। গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, এমন নিম্নমানের মিটার সরবরাহ করা হয়েছে, যা বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন থাকলেও মিটারটি সচল থাকে এবং প্রতিমাসে মিটারের বিপরীতে মাসিক বিল গ্রাহকদের নামে আসে।

এছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নামে কেউ কোনো অর্থ দাবি করলে তা না দেয়ার জন্য এবং গ্রাহকদের সব সমস্যার বিষয়ে ডিপিডিসি এনওসিএস আজিমপুর বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে এসে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। অর্থ আদায়ের ব্যাপারে প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মুজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসের কেউ জড়িত আছে কি না তা তার জানা নেই। কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদারিপুরের সন্তান মিজানুর ডিপিডিসি এনওসিএস আজিমপুর মিটার পাঠক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া ডিপিডিসি শ্রমিক কর্মচারী লীগ-৪৫৭৭ (সিবিএ) এনওসিএস আজিমপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও কার্যনির্বাহী (বিক্রয় এবং মার্কেটিং) টোস পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং লিঃ এ নিয়োজিত রয়েছেন।

মিজানের ব্যাংক হিসাবঃ ইসলামি ব্যাংক হিসাব ডিপিএস, এফডিআর সঞ্চয় আছে, মিউচুয়াল ব্যাংক যেখানে মিজানের বেতন হয়, সেখানে দুইটি ডিপিএস (জানামতে) ১০ (হাজার) টাকা করে প্রতিমাসে জমা রাখেন ও একটি এফডিআর রয়েছে আনুমানিক ১০ (লাখ) টাকার। সামান্য কর্মচারি হলেও বাসা ভাড়া দেন ২৬ হাজার টাকা। নিজ অর্থায়নে বিদশে প্রমোদ ভ্রমন করেছেন একাধিকবার। কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে তার বিদেশ ভ্রমন নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মিজানুর রহমানের এ রহস্যজনক উথ্থানের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন ডিপিডিসির কর্মচারিররা।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :