ঢাকা কাস্টম হাউসে রাজস্ব আহরণে প্রশংসনীয় ভূমিকায় কর্মকর্তারা

এনাম আহমেদ

করোনা মহামারীর এই কঠিন সময়ে সব কিছুকে তুচ্ছ করে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আহরণের কাজে সার্বক্ষণিক কর্মক্ষেত্রে আছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজস্ব আহরণ করছেন। জানা যায়, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে দ্বিগুণ রাজস্ব আহরণ হচ্ছে। কমিশনার মো: মোয়াজ্জেম হোসেনের তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় এয়ারফ্রেইট ইউনিটের সহকারী কমিশনার মো: বায়জিদ হোসেন এবং গোয়েন্দা ও তদারকি কর্মকর্তার দূরদর্শিতা ও কৌশলগত কর্ম দক্ষতার কারণে প্রতিদিন আমদানিকৃত পণ্য স্বচ্ছ নির্জনজাল খালাস হচ্ছে। এর ফলে পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি রাজস্ব রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসা করে খুব প্রশংসনীয় হচ্ছে। এয়রফ্রেইট সূত্রে জানা যায়, এয়ারফ্রেইট ইউনিট গেট ১/২/৩ ও কুরিয়ার ইউনিট থেকে প্রতিদিন যে সমস্ত পণ্য খালাস হচ্ছে তা ইনভয়েস ও প্যাকিং লিস্ট অনুযায়ী কাস্টমস কর্মকর্তাদের সুষ্ঠ তদারকিতে খালাস হচ্ছে। এ কাজে ব্যবসায়ীরাও সহযোগিতা করছে। এর ফলে প্রতিদিনই রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুই একটি চালান এলোমেলো হলেও তা পরবর্তীতে সুষ্ঠুভাবে ইনভেন্টিং করে মোটা অংকের জরিমানাসহ রাজস্ব আহরণ করা হয়।

একাধিক ব্যবসায়ীরা প্রতিবেদকে বললেন, বর্তমানে বেশ কয়েকজন দক্ষ প্রিভেন্টিভ কর্মকর্তা এবং এয়ারফ্রেইট ইউনিটের গোয়েন্দা ও তদারকি কর্মকর্তার দূরদর্শিতা এবং কর্ম দক্ষতার কারণে অবৈধ পণ্য পাচারসহ মিস ডিক্লার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকা কাস্টমস হাউসের বেশ কয়েকজন রাজস্ব কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বললেন, প্রতিটি পণ্যের চালান ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট যাচাই-বাছাই করে কি পরিমাণ ও কি ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে তার ওজন কত এবং বিল অফ এন্ট্রি দেখে ডিক্লার অনুযায়ী সঠিক পণ্য আছে কিনা সব কিছু যাচাই-বাচাইসহ ধার্যকৃত সরকারি ট্যাক্সের টাকা ব্যাংকে জমা হয়েছে কিনা এসব কিছু ঠিকঠাক থাকলে পণ্য চালান দ্রুত খালাস দেয়া হয়। এ সকল বিষয় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে থাকেন এয়ারফ্রেইট ইউনিটের গোয়েন্দা ও তদারকি কর্মকর্তারা (এসটি)। এক্ষেত্রে অন্য কিছু করার সুযোগ নেই। তবে যদিও কোনো চালানে এদিক ওদিক হয়ে থাকে তা সাথে সাথে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এসব ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই সিদ্ধান্ত। এক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েজিং বা ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য খালাস নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। সূত্রে জানা যায়, এই করোনাকালীন সময় কঠোর ‘লকডাউন’-এর মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সরকার চালু রেখেছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে রাজস্ব আহরণ করছেন। এতো বড় মহামারিতেও কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের মনোবল হারাননি।

এই করোনাকালীন সময় সরকার মাস্ক, স্যানিটাইজার, মেডিকেল ইকুইপমেন্টসহ করোনা প্রতিশোধ ভ্যাকসিন আমদানি করেছে তা দ্রুত খালাস দিতে সক্ষম হচ্ছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের সেবামূলক কার্যক্রমের দক্ষতার কারণে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত খুশি হয়ে দক্ষ ও সুযোগ্য কমিশনার মো: মোয়াজ্জেম হোসেনসহ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে করোনাকালীন ‘লকডাউনে’ জরুরী সেবার আওতায় কাস্টমস, বন্ড ও ভ্যাটের সকল স্তরের অফিস খোলা। সেবা দিতে গিয়ে কাস্টমস হাউস, বন্ড ও ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত কমিশনারসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ও বর্তমানে আক্রান্তের সংখা প্রতিদিই বাড়ছে। ইতিপূর্বে একজন কাস্টমস কমিশনারসহ বেশ কয়েকজন মারাও গেছেন; কিন্তু দু:খজনক বিষয় হলো করোনা মোকাবিলায় সম্মুখ সারির যোদ্ধা হয়েও কাস্টমস কর্মকর্তারা এখনো স্বীকৃতি পায়নি। এছাড়া করোনাকালীন এই মহামারিতে জরুরী সেবা দিতে গিয়ে বিশেষ কোনো সুবিধাও তারা পচ্ছেন না।

আপনার মতামত লিখুন :