ঢাকা ক্রেডিটে পংকজ চক্রের লাগামহীন অনিয়ম দুর্নীতি

শেখ কালিমউল্যাহ নয়ন

দেশের বৃহত্তম সমবায় ঢাকা ক্রেডিট খ্যাত দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নে অব্যবস্থাপনা ,অনিয়ম , দুর্নীতি চরম আকার ধারন করেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত না হওয়ায় এবং সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক কাল্বকে অডিট ক্ষমতা প্রদান করায় অনিয়ম দুর্নীতিতে নিমজি¦ত হয়ে পড়েছে স্বনামধন্য এই সমবায় সমিতি। ক্ষমতা কুক্ষিগতকারী চক্রের অব্যাহত অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে ৪০ হাজার ৩৩৫ সদস্যের ৬৯১,৫৮,২৯,৭৪৭.৬২ টাকা মুলধন বিশিষ্ট সমবায় সমিতি আজ ধ্বংসের উপক্রম। ঢাকা ক্রেডিটে অনিয়ম,অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি চরম আকার ধারন করেছে। একদিকে ক্রমাগত লোকসানের দিকে ধাবমান সমিতি ধ্বংসের দিকে পতিত হচ্ছে অন্যদিকে পংকজ ও বাবু মার্কুজ সমিতি লুটপাট করে আমেরিকায় বাড়ি ক্রয় করেছে বলে জানা গেছে। পংকজ চক্রের সমিতি লুটপাট করে বিদেশে অর্থ পাচার ও অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে সম্প্রতি ঢাকা ক্রেডিটের একজন সদস্য আবেদন করেছেন। সমিতির ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের অডিট রিপোর্টে ব্যবস্থাপনা কমিটির দুর্নীতির আংশিক চিত্র ফুটে উঠেছে মাত্র। সমবায় অধিদপ্তর ঢাকা ক্রেডিটের অডিট করেনা বলে পূর্ণাঙ্গ দুর্নীতির চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। ক্ষমতাপ্রাপ্ত কালব অডিটে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ায় যেমন দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায়নি তেমনি দুর্নীতি সংঘটনে কালব এর অডিট ক্ষমতা পরোক্ষ ভুমিকা পালন করছে। কালবের অডিট পর্যবেক্ষণে কয়েকটি খাতে সুনির্দিষ্ট আপত্তি করা হয়েছে। তবে কোথায়,কিভাবে,কত টাকা অপচয় ,আত্মসাত বা অনিয়ম করা হয়েছে তা বিস্তারিত বলা হয়নি। সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক সম্পাদিত অডিট পর্যবেক্ষণে বিস্তারিত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। সমিতির নামে জমি ক্রয় ,ভবন নির্মান,গাড়ী ক্রয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সঞ্চয় ও ঋণদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও কেবল ব্যক্তি স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নীতি আদর্শের বাইরে গিয়ে জমি ক্রয়, ভবন নির্মানের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এমনকি অর্থ লোপাটের জন্যে বিউটি পারলার পর্যন্ত করেছে। প্রায় সকল প্রকল্পে লোকসান হচ্ছে। অব্যাহত লোকসানের নেপথ্যে রয়েছে তাদের লাগামহীন দুর্নীতি। কালবের দুর্বল অডিটেও এসব বিষয়ে আপত্তি করা হয়েছে। সমিতি লুটপাট করে পংকজ ও বাবু আজ প্রচুর অর্থ বিত্তের মালিক। দু’জনেই আমেরিকাতে বাড়ি কিনেছে বলে জানা গেছে। তাদের পরিবার আমেরিকায় বসবাস করে। বাবু মার্কুস ট্রাক ব্যবসায়ী আর পাট ব্যবসায়ীর ছেলে পংকজ ছোট খাটো ব্যবসা করে । তাদের আমেরিকায় বাড়ি, দেশে বাড়ি,প্লট, ফ্লাট, ব্যাংক ব্যালেন্সের টাকার উৎস তদন্ত করলেই জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টগণ মনে করেন। সমবায় বিধিমালা ২০০৪ এর ৪৬(৬) বিধি এবং বাংলাদেশ সরকারের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস -২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এ্যাক্ট – ২০০১ অনুসরন না করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে তিনটি গাড়ী ক্রয় করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা ক্রেডিটের সভাপতি পংকজ গিলবার্ট কস্তা চক্রের বিরুদ্ধে। কালব সম্পাদিত ঢাকা ক্রেডিটের ২০০১৭-১৮ অর্থ বছরের অসম্পূর্ণ দুর্বল অডিট রিপোর্টেও এসেছে এই তথ্য। জানাগেছে, বার্ষিক সাধারন সভার অনুমোদন ছাড়া কেবল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্যে তিনটি গাড়ী ক্রয় করা হয়। ১৬/৯/২০১৭ তারিখে ২৭,২৫,০০০.০০ টাকায় একটি টয়োটো হায়েচ সুপার জে এল, ২৫/১০/২০১৭ তারিখে ১৭,২০,০০০.০০ টাকায় টয়োটো ফিল্ডার ২০১২ এবং ৩০/৬/২০১৮ তারিখে ১৮,২৭,০০০.০০ টাকায় টয়োটা এক্্িরও -২০১৩ মডেলের গাড়ী ক্রয় করা হয়। গাড়ি ক্রয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পংকজ চক্রের বিরুদ্ধে। জাল জালিয়াতি করে ক্ষমতা দখলকারী সভাপতি পংকজ গিলবার্ট কস্তা চক্র রীতিমত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। সমিতি লুট করে প্রচুর বিত্ত বৈভবের মালিক বনে গেছেন। অন্যায়ভাবে বেআইনী প্রক্রিয়ায় অনেকের সদস্যপদ বাতিল করেছে। প্রতিবাদী নির্বাচনে অংশগ্রহনেচ্ছুক যোগ্য সদস্যদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটিয়েছেন । অনেকে সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে গৃহ ছাড়া হয়েছেন। তাদের এই অপকর্মে সহায়তা করছেন প্রশাসন,সমবায় অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী । পংকজ চক্রের অনিয়ম,দুর্নীতি, অত্যাচার থেকে বাচাঁর জন্যে ঢাকা ক্রেডিটের সাধারণ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী, সমবায় মন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সমবায় অধিদপ্তরে আবেদন করেছেন। দেশের বৃহত্তম সমবায় সমিতিটি রক্ষার জন্যে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঢাকা ক্রেডিটের সাধারন সদস্যগণ।

 

আপনার মতামত লিখুন :