শাহিন চৌধুরী :
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ রফিকুল ইসলামের দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। টাকা দিলেই সাধারণ মানুষ বিদ্যুতের জন্য আবেদনের ফাইল দিলে স্বাক্ষর করেন। টাকা না পেলে অযুহাত দেখিয়ে ফাইল বাতিল করেন ডিজিএম রফিকুল। আন্যথায় সাধারণ মানুষের কাছে মিথ্যা কান পরাদেন পল্লী ইলেকট্রিশিয়ানদের বিরুদ্ধে। তাদেরকে আখ্যায়িত করা হয় দালাল উপাধিতে।
পরে নিজে অফিসার পরিচয় দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেন এবং তার পছন্দ মত ইলেকট্রিশিয়ানকে কাজ দিয়ে গোপনে মুনাফা লুফে নেন রফিক। তারই ধারাবাহিকতায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে এসেছে আটি মডেল টাউনে ১১ তলা ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৯৫ভাগ কাজ করেছেন ডিজিএমের নির্দেষে। সম্প্রতি রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে ভবনটির কিছু অংশ ভেঙে গেলেও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা অবস্থায় রাজউকের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে(ফায়ারের) অগ্নি নির্বাপক অনুমোদিত কোন কাগজ ছাড়াই সংযোগের জন্য প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছেন যাহার স্মারক নং ২৭.১২.২৬৩৮.৫৮০.০৫.০২৫.২৫.৪২৩ লট নং ডি ডবিøউ – ২৫/১০৪৬। যাহাতে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষর করেছেন ২৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে যানা যায়, ডিজিএম রফিকুল ইসলাম মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সদরে থাকা কালিন অসংখ্য দুর্নীতি ও অনিয়ম করে সমালোচনায় পরেছিলেন। কিছুদন পূর্বে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কেরানীগঞ্জের আটিবাজার জোনাল অফিসে যোগদান করেন রফিকুল ইসলাম। যোগদান করেই শুরু করেন ঘুষ দুর্ণীতি।
জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছার এক হত দরিদ্র ঘরের সন্তান রফিকুল। যিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক, কিনেছেন জমিও। করেছেন বাড়ী । অবৈধ উপার্জনে মানিকগঞ্জে এজিএম ফাইন্যান্স থাকা কালিন চড়া মুল্যে কিনেছেন একাধিক জমি। তার এলাকার জনমনে নানা প্রশ্নঃ ৭/৮ বছর চাকুরীতে এতো টাকা কোথায় পেলো রফিকুল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইলেকট্রিশিয়ান জানান, লিখিত অভিযোগের পর থেকেই এম এস মিজানুর রহমান ও দালাল আলো ও কাজী মিরাজ নামের জিনজিরা অফিসের পরিচয় দিয়ে আমাকে একাধিকবার হুমকি দিয়ে যেতে বলেন এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কাজ করে খেতে হলে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য বলেন। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ এর জেনারেল ম্যানেজার বরাবর ইলেকট্রিশিয়ানদের অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে যে, আটিবাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম এবং ওয়ারিং ইন্সপেক্টরের মাধ্যেমে অনৈতিক ও অনিয়ম বিভিন্ন রকম কাজ করা হয়। যাহার কারনে অফিস চলা কালিন সময় বিভিন্ন রকম গ্রাহকদের সাথে গন্ডগোল ও ঝগড়াঝাটি হয়। ডিমান্ড নোটের টাকা জমা কালিন সময় গ্রাহকদের কাছে দাবি করা হয়মোটা অঙ্কের টাকা । এই ধরনের ঝামেলার কারনে অফিসের মান ক্ষুন্ন হয় যা অফিস বিরোধি। যাহার কারনে ইলেকট্রিশিয়ান দের ওয়ারিং করার সময় গ্রাহকদের সাথে বিভিন্ন রকম বাক বিতন্ডতা হয়।
আটি বাজার বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএমের কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলেন দাবি করেন। তাছাড়া তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে অন্য প্রসঙ্গ তুলে নানা ভাবে সাংবাদিককে পটানোর চেষ্টা করেন।
অপরদিকে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ খালেদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আমাদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয় হবে। তিনি বলেন,আমি যতদিন কেরানীগঞ্জে আছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাব এবং অন্যায় কারীকে শাস্তি পেতেই হবে।