ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচন পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে মাঠে শেখ মুশফিকুর রহমান

হাফিজুর রহমানঃ

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে কে হচ্ছেন নৌকার কাÐারী এটা একমাত্রই জানেন দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখনো কাউকে তিনি প্রার্থী হিসেবে সবুজ সংেকেত দেন নি। তবে দীর্ঘদিন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করে জনপ্রিয়তায় রয়েছেন অনেকেই। প্রয়াত সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃতুতে শূন্য হওয়া ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে দক্ষ, উচ্চ শিক্ষিত-সৎ ও মেধাবী ক্লীন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে চমক দেখাবেন দলীয় প্রধান । এমনটাই মনে করেন সবাই। যেমন করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নতুন মন্ত্রী সভা গঠনের মাধ্যমে দেশবাসিকে চমক দেখিয়েছিলেন তিনি। ঢাকা- ৫ শূণ্য আসনের উপ-নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে অনেক নতুন মুখ। এদের মধ্যে একজন বঙ্গবন্ধুর ভাতিজি শেখ হামিদার সুযোগ্য পুত্র গোপালগঞ্জের কৃতি সন্তান শেখ মুশফিকুর রহমান।

যিনি ঢাকা-৫ আসনের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইতিমধ্যে প্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজেও হতে চান শুধু জনগনের সেবক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭৩ ইং সালে খুলনা উন্নয়ন (কেডিএ) কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত দায়িত্বরত সচিব মরহুম শেখ মতিউর রহমানের পুত্র এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ফুফাতো ভাই জিল্লুর রহমানের মেয়ে শেখ হামিদার কৃতি সন্তান শেখ মুশফিকুর রহমান। শেখ পরিবারের এই সদস্য শেখ মুশফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। ওই উন্নয়ন কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারলে আমি নিজে কে ধন্য মনে করবো। আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পরিবারের একজন সদস্য। ছোট বেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদের্শ বড় হয়েছি, আমি দেখেছি এ দেশ স্বাধীন করার লক্ষ্যে তিনি কতটুকু আত্মউৎসর্গিত করেছেন।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের (রেসকোর্স ময়দানে) বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে দেশ স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে বীর বাঙ্গালী যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেৃতত্বে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার থেকে ছিনিয়ে আনেন লাল-সবুজের পতাকা। স্বাধীন হয় বীর বাঙ্গালীর সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ। তিনি বলেন আমি আপনাদের এই কথাই বুঝাতে চাচ্ছি যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যেমন ভাবে জীবন বাজি রেখে এ দেশ স্বাধীন করেছেন, তেমনি আমি আমার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত সাংসদ নির্বাচিত হলে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকব। ইনশাল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন, দুর্নীতিতে কোন ছাড় নেই বলেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে একাত্বতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস ভাবে কাজ করে যাব।

কিন্তু আপনাদের সহযোগিতা আমার একান্ত প্রয়োজন। এটাই আপনাদের কাছে আমার একমাত্র চাওয়া। ৩ই জুলাই ২০২০ ঢাকা -৫ আসনের ডেমরা থানাধীন গণসংযোগকালে শেখ মুশফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। ওই সময় উপস্থিত জনতা আনন্দ উৎফুল্লে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ¯েøাগানে প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা শেখ মুশফিকুর রহমানকে অভিনন্দন বার্তা ও স্বাগত জানান। এদিকে শেখ মুশফিকুর রহমান সহ ঢাকা-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আমলনামা এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে রয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়াও এই আসনটিতে প্রত্যেক মনোনয়নপ্রত্যাশীর আমলনামা বেশ কয়েকটি সংস্থা যাচাই-বাছাই করছে।

ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সজল, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও শহীদ শেখ কামালের স্ত্রী শহীদ সুলতানা কামালের ভাতিজি নেহরীন মোস্তফা দিশি, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনসহ অন্তত এক ডজন প্রার্থী। জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাতুয়াইলের সন্তান মীর আব্দুস সবুর আসুদও আলোচনায় রয়েছেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :