তারাকান্দায়  ১৫ বছরের মেয়ে গর্ভবতী !

সুৃমন ভট্টাচার্য্য, ময়মনসিংহ 

অপরিণত বয়সের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন গর্ভবতী হওয়ার ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে পুলিশকে জানায় । পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দায়ী মো: সজিবকে আটক করে । সাবিনাকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় । ঘটনাটি গত ১৮ আগস্টে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার । জানা যায়, তারাকান্দা উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে সজিব মিয়া (২১)। একই উপজেলার কালুহারি গ্রামের বাসিন্দা সজিবের ফুফাতো বোন সাবিনা ইয়াসমিন (১৫)। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল । প্রেম চলাকালে তারা নিজ গ্রামে এবং গাজীপুরে একটি গার্মেন্টেসে একত্রে মেলামেশা অর্থাৎ অবৈধ শারিরীক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে । অত:পর মেয়েটি ৮ মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়ে । সম্প্রতি মেয়েটি বাড়িতে আসলে তার গর্ভবতী হওয়ার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে । গ্রামবাসী ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের বিষয়টি জেনে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠায় । থানা পুলিশ ছেলে মেয়েকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে ।
তারা সাবিনা আক্তারের জবানবন্দি শুনে । সাবিনা বাদী হয়ে মো: সজিবের বিরুদ্ধে  শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে । স্থানীয় লোকজন জানান, ১৪ বছর বয়স থেকেই তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে । ১৫ বছর বয়সে গর্ভবতী হয় । স্থানীয় গালাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জানান, তাদের  কম বয়স বিষয়টি সত্য নয় । তারা নিজেদের সন্মতিতে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে । স্বামী- স্ত্রী হিসাবে তারা বৈধ । বয়স কম এবিষয়ে জানান, ঘটনা যেহেতু ঘটে গেছে । সেহেতু মামলা না করে আপোষ- মিশাংসা করা যেত ।
স্থানীয় একাধিক লোকজন জানান, তাদের মধ্যে কোন প্রকার বিয়ে হয়নি । তারা এলাকার ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন করেছে । মামলা হওয়ার পর সাজানো এফিডেভিট করেছে ।
তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি সজিবকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে । ভিকটিম সাবিনা ইয়াসমিনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে ।
ওসি আবুল খায়ের বলেন, বাল্য বিবাহ বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে ।
তারাকান্দা থানা পুলিশ কঠোর হস্তে দমন করছে । বয়স কম দেখে এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতেই মামলা আমলে নিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছি । মামলার তদন্ত চলছে । পরে বিস্তারিত জানা যাবে । এবিষয়টি নিয়ে আপনাকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র । ভাল কাজ করলে এমনটা হতেই পারে । আমি আইনের দৃষ্টিতে সঠিকটাই করেছি ।
আপনার মতামত লিখুন :