তৃণমূলের তালিকার বাইরে ফরম কেনার সুযোগ নেই : আওয়ামীলীগ

আমাদের কন্ঠ ডেস্ক: ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তৃণমূলের পাঠানো প্যানেল তালিকার বাইরে মনোনয়ন ফরম কেনার সুযোগ নেই। এমনকি দলীয় সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ‘ডিও’ লেটার দিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের জন্য পাঠালেও তা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছে আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আগ্রহীদের মধ্যে নৌকার ফরম বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।

চারটি জেলা পরিষদ, ৯টি উপজেলা পরিষদ ও ৬১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সামনে রেখে গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। দলের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে এসব ফরম সংগ্রহ ও সেখানেই জমা দেওয়া যাবে।

মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হলে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী অনেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ‘ডিও লেটার’ নিয়েও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ ওঠে। অনেকেই বলছেন, মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে আওয়ামী লীগ ‘কড়াকড়ি’ আরোপ করেছে। তবে আওয়ামী লীগ বলছে, বাড়তি কোনো কড়াকড়ি আরোপ হয়নি মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই ইউপি নির্বাচনের জন্য এমপিদের ‘ডিও লেটারে’র ভিত্তিতে ফরম বিক্রির কোনো নিয়ম নেই।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইউপি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রির বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনয়ন ফরম বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করছে কিংবা মনোনয়ন বিক্রি বন্ধে অনেক বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে— এ তথ্য সত্য নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কিভাবে হবে, কিভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে— তার একটা সুনির্দিষ্ট রূপরেখা আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে আছে। সেভাবেই ফরম বিক্রি চলছে।‘

‘ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন এখন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হয় না, সেখানে আমরা সমর্থন দিই। সামনে মৌলভীবাজার, মাদারীপুর, ফরিদপুর ও ফেনীর জেলা পরিষদ নির্বাচন আছে। এছাড়া ৯টি উপজেলা পরিষদ ও ৬১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আছে। নির্বাচন আইন অনুযায়ী ইউপি ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা অংশ নেবেন। আর আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই এসব নির্বাচনে উন্মুক্তভাবে মনোনয়ন ফরম বিতরণের নিয়ম নেই। দলের গঠনতন্ত্রের ২৮ (৩) অনুচ্ছেদে সেটি সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে’— বলেন ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘নিয়ম হলো— যে ইউনিয়নে নির্বাচন হবে, সেই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ একটি বর্ধিত সভা করবে। সেখানে তারা তিন জনের একটি প্যানেল তৈরি করবে। তারা সেটি উপজেলা আওয়ামী লীগকে অবহিত করবে। উপজেলা আওয়ামী লীগ ফরোয়ার্ডিংসহ সেটি জেলা আওয়ামী লীগে পাঠাবে। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক— এই ছয় জনের যৌথ সইয়ের সর্বোচ্চ তিন জনের একটি প্যানেল কেন্দ্রে আসবে। ওই প্যানেলকে আমরা ফরম দেবো। এর বাইরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কারও ফরম কেনার সুযোগ নেই। অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, এমপিরা ডিও দিচ্ছেন। পার্টির গঠনতন্ত্রে এরকমভাবে কোনো এমপি বা জনপ্রতিনিধির ডিও’তে ফরম দেওয়ার কোনো বিধান নেই।‘

বিপ্লব বড়ুয়া জানান, ‘এরকম বিধান করার নেপথ্যে রয়েছে সাংগঠনিক ‘চেইন অব কমান্ড’ প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, এমপিরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর বিষয়ে সুপারিশ করতেই পারেন। কিন্তু তারা তাদের সুপারিশটা করবেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের কাছে। সেটা ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগ হয়ে কেন্দ্রে আসতে হবে। অর্থাৎ সাংগঠনিক যে চেইন অব কমান্ড আছে, সেটি মেনেই করতে হবে। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিন্তু মনোনয়ন ফরম কেনার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। যে কেউ এই নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম কিনতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বা জেলা আওয়ামী লীগের কোনো রেজ্যুলেশন প্রয়োজন হয়নি।‘

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সীমিত পরিসরে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

আপনার মতামত লিখুন :