ধর্ষণ মামলার ২০ দিন পর আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার:

ধর্ষণের মামলা করার ২০ দিন পর রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার নাম ফাতেমা বেগম। শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে শনিবার ফাতেমা বেগমের মা থানায় মামলা করলে তার স্বামী সুমন শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়নুল আবেদীন জানান, ফাতেমা বেগম শুক্রবার রাতে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ ছাপরা মসজিদ এলাকার একটি বাসায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।

খবর পেয়ে তার লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। ফাতেমা বেগমের মা নুরুন্নাহার শনিবার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করলে স্বামী সোহেল শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

এসআই জয়নুল আবেদীন জানান, স্বামী সোহেলের দাবি- চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাস ধরে বাড়িওয়ালা আলী আহমদ, রানা, আলমগীর ও নাজমুল তার স্ত্রীকে নানা সময়ে ধর্ষণ করে। কিন্তু এ কথা তার স্ত্রী ভয়ে কাউকে বলেনি। এ সুযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তারা তাকে ধর্ষণ করেছে। চলতি মাসে সোহেল এসব ঘটনা জানতে পারেন।

পরে ৪ অক্টোবর দক্ষিণখান থানায় ফাতেমা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। সেই মামলায় আলী আহমেদ ও রানা বর্তমানে কারাগারে আছে।

এসআই বলেন, ফাতেমা ওই মামলার স্বাক্ষী বা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইতেন না। তা নিয়েই মূলত তাদের মধ্যে ঝামেলা হতো।

এর আগে ২১ অক্টোবর রাত ২টার দিকে স্বামী মো. সোহেল শেখের সঙ্গে ওই ধর্ষণের অভিযোগে মামলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ফাতেমার ঝামেলা হয়। তখন স্ত্রীকে মারধোরও করেন স্বামী সোহেল শেখ।

তিনি জানান, সুমন শেখের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে। আর ফাতেমার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। ৬ মাস আগে তারা প্রেম করে বিয়ে করেন। এটি ফাতেমার দ্বিতীয় বিয়ে এবং সোহেলের তৃতীয় বিয়ে।

আপনার মতামত লিখুন :