ধর্ষণ মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ২ নেতা রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর দায়ের করা ধর্ষণ ও ধর্ষণের সহযোগিতার মামলায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতাকে দুই দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

তারা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম ও সংগঠনটির ঢাবি শাখার সহ-সভাপতি মো নাজমুল হুদা। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়ার আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের দুজনকে সাত করে রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত শুনানি শেষে তাদের দুজনকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করেন ঢাবির ওই ছাত্রী। এতে ছাত্র অধিকার পরিষদের আহবায়ক হাসান আল মামুনকে ১ নম্বর আসামি এবং ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।

পরদিন ওই ছাত্রী রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। দ্বিতীয় মামলায় ১ নম্বর আসামি সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান। দুই মামলাতেই আসামি হিসেবে রয়েছেন পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা ও কর্মী আবদুল্লাহ হিল বাকি।

তবে ১৭ দিন পার হলেও কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন ঐ ছাত্রী।

পরে, রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মগবাজার ও আজিমপুরে অভিযান চালিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম ও সংগঠনটির ঢাবি শাখার সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রাজীব আল মাসুদ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে রাজীব আল মাসুদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ঢাবির এক ছাত্রীর দায়ের করা মামলার চার নম্বর আসামি মো. সাইফুল ইসলাম ও পাঁচ নম্বর আসামি মো. নাজমুল হুদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরে সোমবার দুপুরে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান আসামিদের আদালতে হাজির করে কোতয়ালী থানায় দায়ের করা মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে প্রার্থনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :