ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে আইন প্রয়োগে সমন্বয় ও ডিজিটাল মনিটরিং জোরদার

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকের দৌরাত্ম্য: ৭৩% বিজ্ঞাপন, ৩৮% অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বিক্রি”

নিজস্ব প্রতিবেদক

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশের ৭৩ শতাংশ তামাক বিক্রয়কেন্দ্রে কোনো না কোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন রয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপান নিষিদ্ধ থাকলেও ৪৩ শতাংশ স্থানে সরাসরি ধূমপানের ঘটনা ঘটছে এবং ৩৮ শতাংশ ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা হচ্ছে।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় রাজধানীর পল্টনে ফার্স হোটেলে আয়োজিত “বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা” শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি) মহাপরিচালক মোঃ আখতারউজ-জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তামাকমুক্ত রেলওয়ের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কনসালটেন্ট ও এনটিসিসির সাবেক সমন্বয়কারী অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মীর আলমগীর হোসেন, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (দক্ষিণ) রখফার সুলতানা খানম, মাদক ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য ও নীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মোঃ হামিদুর রহমান খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টিসিআরসি’র প্রকল্প পরিচালক ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মোঃ বজলুর রহমান। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিসিআরসি’র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফারহানা জামান লিজা।
গবেষণায় দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরের মোট ৪৭৪টি স্থান বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ৩৮৮টি পাবলিক প্লেস এবং ৮৬টি পাবলিক পরিবহণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণার ফলাফলে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা, পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও ডিসপ্লে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাক বিক্রির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং নিয়মিত মনিটরিং ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদারের সুপারিশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্বল নজরদারি ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। পাবলিক প্লেস ও পরিবহণের মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় না আনলে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে পরোক্ষ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইনকে ফাঁকি দিচ্ছে। এসব বন্ধ করতে হলে আইনের ফাঁকফোকর দ্রুত সংশোধন ও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তামাক বিক্রয়কেন্দ্রের কার্যকর লাইসেন্সিং ব্যবস্থা জরুরি, যা তামাক কোম্পানিগুলোর চোরাচালানসংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর প্রচারও নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ (সংশোধনী) ২০২৫’ দ্রুত আইনে পরিণত করে কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানান। তাদের মতে, এটি বাস্তবায়ন করা গেলে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক এবং তামাক বিরোধী সংগঠনের অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
বিস্তারিত জানতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করুন
Advertisement

দৈনিক আমাদের কণ্ঠ