নরসিংদীর রায়পুরায় ৯ ইউনিয়নে নেই ভূমি অফিস, ভোগান্তিতে সেবা গ্রহীতারা, পরিত্যক্ত ঝুকিপূর্ণ ভবনে চলে কার্যক্রম

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯ ইউনিয়নে নেই নিজস্ব ভূমি অফিস। হাতের নাগালে ভূমি অফিস না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ সেবা গ্রহীতারা। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত ঝুকিপূর্ণ ভবনে চলছে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দূর্ঘটনা। জানা যায়, ২৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বৃহৎ উপজেলা রায়পুরা। এ উপজেলায় ৭ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। জনসাধারনের সুবিধার্থে প্রতিটি ইউনিয়নে ভূমি অফিস থাকার কথা থাকলেও সেখানে ২৪টির মধ্যে ৯টি ইউনিয়নে নেই কোন নিজস্ব ভূমি অফিস। ইউনিয়নগুলো হলো: নিলক্ষা, চর আড়ালিয়া, ডৌকারচর, চরমধুয়া, শ্রীনগর, চান্দেরকান্দি, অলিপুরা, মির্জাপুর ও মির্জারচর ইউনিয়ন। শুধু তাই নয়, ৯টির ৪টি ইউনিয়নে কোন ভূমি অফিসই নেই। অলিপুরা, চান্দেরকান্দি, চরাঞ্চলের শ্রীনগর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের কার্যক্রম চলছে উপজেলা সদরের পৌর এলাকায়, ডৌকারচর ইউনিয়নের কার্যক্রম চলে আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ পশ্চিম বাজারে। নিলক্ষা ইউনিয়নের কার্যক্রম চলে ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত ঝুকিপূর্ণ ভবনে।

মির্জাচরচর ইউনিয়নের কার্যক্রম চলে ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনের একটি কক্ষে। স্থানীয়রা জানান, প্র্রায় পচিশ বছর যাবৎ নিলক্ষা ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের একটি কক্ষে নিলক্ষা ইউনিয়ন ভূূমি অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন অংশে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়েছে। ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এ ঝুকির মধ্যেও চলছে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম। তাছাড়া হাতের নাগালে ভূমি সেবা না পাওয়ায় দুরদুরান্ত থেকে সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অনেকে এমন অভিযোগ বিভিন্ন ইউনিয়নের সচেতন মহলের। নিলক্ষা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ফিরোজ মিয়া বলেন, আমরা অনেক ঝুকির মধ্যে কাজ করছি। যে কোনো সময় ভবনের ছাদ ধ্বসে মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া বৃষ্টি হলে ছাদ ও জানালা দিয়ে অফিসের ভিতরে পানি ঢুকে। এতে করে অফিসের কার্যক্রম চালাতে সমস্যা হচ্ছে। মির্জারচর ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক বলেন, আমার পুরাতন ছোট পরিষদ ভবনে আমাদের কাজ করতেই কস্ট হয়, সেখানে আবার ভূমি অফিসের কার্যক্রম চলে।

অন্যত্র জমির ব্যবস্থা করে দিব ভূমি অফিস নির্মাণ করে নিন বললেও কোন কাজ হচ্ছে না। চান্দেরকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম মিঠু বলেন, আমার ইউনিয়নের ভূমি অফিস উপজেলা সদরে অবস্থিত। সরকার চাইলে যে কোন মুহুত্যে নিজ ইউনিয়নে স্থাপন করতে পারে। হাতের কাছে হলে ভালো হয়। চরাঞ্চলের শ্রীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল বলেন, জমি সংক্রান্ত সেবা পেতে হলে এই ইউনিয়নের লোকজনকে ১০/১৫ কি: মি: পথ পারি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়। নিজ ইউনিয়নে ভূমি অফিস থাকলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কম হতো। মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহ ভুইয়া বলেন, আমার ইউনিয়নে নিজস্ব অফিস না থাকায় পরিষদ কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে ভূমি অফিসের কার্যক্রম চালাচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী শামীম ইকবাল মুন্না বলেন, প্রাপ্ত চাহিদা অনুযায়ী তিনটি ইউনিয়নে ভবন নির্মানের কাজ চলছে। পরবর্তিতে চাহিদা পেলে সেগুলোও বাস্তবায়ন করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ৯টি ইউনিয়নে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :