নীলফামারী সদর চাঁদেরহাট মহাবিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির অতিরিক্ত “ফি” আদায়

আব্দুল মালেক, নীলফামারী

আগামী শিক্ষাবর্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি ও বাড়তি টিউশন ফি’সহ অন্যান্য ফি আদায় করলেই প্রতিষ্ঠান প্রধান ও জড়িত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিও (মান্থলি প্রেমেন্ট অর্ডার) বন্ধসহ চাকরি থেকে বরখাস্তের ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ আছে নীতিমালায়। প্রয়োজনে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির এমপিও বন্ধ করা হবে বলে জানান নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম। এদিকে ওই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ৩হাজার ৫শত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা চাঁদেরহাট মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি এই করোনা মহামারীর মধ্যে গরীব অসহায় শিক্ষার্থীদের পুরো টাকা দিয়ে ভর্তি হতে বললে অনেকেই আবার সুদের টাকা নিয়ে ভর্তি হয়। সরকারের নীতিমালায় দেখা যায়, জেলা সদর উপজেলায় দুই হাজার টাকার বেশি নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সরকারের নীতিমালাকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে নড়েচড়ে বসেছে অধ্যক্ষ সহিদুল ইসলাম। করোনাকালীন কামকাজ না থাকায় অভাব অনটনের মধ্যেও ছেলের ভর্তির “ফি” সাড়েতিন হাজার টাকা সুদের উপর নিয়ে ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন বলে জানান, একজন কাঠশ্রমিক বাবা জয়নাল আবেদীন।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আলসার রোগে ভুগতেছি, ধারদেনা করে চিকিৎসা করি কোন রকম। এরমধ্যে ছেলে মেট্রিক পাশ করেছে, কলেজে ভর্তির সময় শেষের দিকে, টাকা নাই কোনমতে দুই হাজার জোগাড় করে ছেলেকে কলেজে পাঠাই, প্রিন্সিপাল নাকি ফিরত দিছে। জয়নাল আবেদীন বলেন, উপায় কোন না পেয়ে সুদের উপর দেড় হাজার টাকা নিয়ে পাটিয়ে দিলে ভর্তি করায়। কলেজের অফিস সহকারী আমিনুর রহমান বলেন, করোনা মরোনা বুঝিনা আমরা পঁয়ত্রিশ শত টাকা নিয়ে ভর্তি করাবো। এর বাইরে কিছুই করার নেই, পাড়লে আপনারা প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে কথা বলেন। করোনাকালীনের কথা এড়িয়ে অধ্যক্ষ সহিদুল ইসলাম বিষয়টি ভাড়াবাড়ি না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পরবর্তীতে বিভিন্ন সুযোগ থাকবে শিক্ষার্থীদের। অসহায় শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির সুযোগ পাবে। ভর্তির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ডিও) শফিকুল ইসলাম বলেন, করোনাকালীন ‘অতিরিক্ত ভর্তি ও বাড়তি ফি আদায় মনিটরিং করা হচ্ছে শুরু থেকেই। এ বিষয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। যদি নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়, প্রমান পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ জড়িতদের এমপিও বাতিল করার সুপারিশ করা হবে মন্ত্রণালয়ে।

 

আপনার মতামত লিখুন :