নেত্রকোনার পূর্বধলায় হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার পূর্বধলায় রুকুনুজ্জামান খান মিন্টু হত্যাকান্ডের ১০ দিন পর চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে পূর্বধলা থানা পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের আব্দুল কাদির খানের পুত্র রুকুনুজ্জামান খান মিন্টু (৪০) গত ২২ আগষ্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে বালিয়া গোদারাঘাট বাজার হতে নিজ বাড়ীতে ফেরার পথে সাত্যাটি বাশঁঝাড় তল কালভার্টে পৌঁছলে দুস্কৃতিকারীরা তাকে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তার আর্ত-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পূর্বধলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ আগষ্ট দুপুর ১টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই নুরুজ্জামান খান (৪৫) বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামী করে ২৬ আগষ্ট পূর্বধলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তাওহীদুর রহমান শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে সাংবাদিকদের জানান, মামলায় হত্যাকান্ডের কোন মোটিভ ও ক্লু না থাকায় পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় বিপাকে পড়ে। পরে পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ú্রশাসন) মোঃ ফখরুজ্জামান জুয়েল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোর্শেদা খাতুনের সহযোগিতায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই তাপস বনিক তদন্ত শুরু করেন। তদন্তকালে পারিপার্শিক অবস্থা ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে বালিয়া বড়বাড়ীর হারেছ খানের পুত্র আজহারুল ইমলাম খানকে (২১) সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে ৩০ আগষ্ট আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদকালে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ আগষ্ট একই গ্রামের সুরুজ আলীর পুত্র মিজানুর রহমানকে (২৫) আটক করা হয়। তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এক পর্যায়ে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা ১ সেপ্টেম্বর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি প্রদান করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, মিন্টু এলাকার একজন ধনাঢ্য দাদন ব্যবসায়ী। সে সুদের সাথে সাথে জুয়া খেলায়ও টাকা খাটায়। তার সাথে সব সময় অংকের টাকা থাকে। টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার লোভেই গাজীপুর জেলার কোনাপাড়া এলাকা থেকে তিন ভাড়াটে খুনিকে এনে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। পরে তাদের দেখানো স্থান থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানান, ভাড়াটে তিন খুনিকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :