নেত্রকোনায় সক্রিয় বিএনপি জামায়াত পন্থী ঠিকাদারা

বিশেষ প্রতিনিধি

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লৎফুজ্জামান বাবরের আশির্বাদপুষ্ট বিএনপির ঠিকাদাররা এখনও সক্রিয় নেত্রকোনায়। নেত্রকোনা ও ঢাকায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরেফিরে কাজ পাচ্ছে বিএনপি জামায়াতের এসব ঠিকাদারা । সাবেক মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খসরুর আমলেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিএনপি ও জামাতপন্থী নেত্রকোনা এলজিইডি, মৎস্য, গণপূর্ত ভবনসহ সরকারি বিভিন্ন অফিস তাদের দখলে। তারা সদর্পে কাজ করছে ঢাকাতেও । অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা চিড়িয়াখানায় ড্রেন ও শেড ৮ কোটি টাকার নির্মাণ কাজ করছে নেত্রকোনা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক শাহাবউদ্দিন রিপন, লুৎফুজ্জামান বাবরের কাছের লোক হিসাবে খ্যাত জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান চৌধুরী, নেত্রকোনা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গাজী তোফায়েল আহমদ প্রমুখ । নেত্রকোনায় জামাতের ডোনার হিসাবে পরিচিতি রয়েছে আজাদ – বাবলু ।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় শুরু হয় ই-টেন্ডারিং। ই-টেন্ডারের আইনি মারপ্যাঁচে ঘুরেফিরে কাজ পাচ্ছে বিএনপি জামায়াতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই ঠিকাদাররা বর্তমান প্রতিমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খসরুর নাম ভাঙিয়ে পরিচালনা করছে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ । এসব ঠিকাদারদের নিন্মমানের কাজ সম্পাদনের কারণে সরকারি উন্নয়ন কাজ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে । খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,সড়ক ও জনপথ (সওজ), শিক্ষা প্রকৌশল (ইইডি), স্বাস্থ্য প্রকৌশল (এইচইডি), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) অধিদপ্তর এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিএনপি পন্থী এসব ঠিকাদার সবচেয়ে বেশি কাজ ভাগিয়ে নিচ্ছে এখনও । জানা গেছে, সরকারী বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারি বিএনপি-জামায়াতের এসব ঠিকাদার এখনও কেন প্রাধান্য পাচ্ছে এ ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রতিমন্ত্রীসহ আওয়ামীলীগ তথা সরকারী দলের বড় বড় নেতাদের সাথে তাদের ভালো যোগাযোগ আছে। নিজেদের ব্যবহার করার জন্য তাঁদের কিছু কাজ দেওয়া হয় যা আদতে একটা লেনদেনের মত ব্যাপার। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ করা ঠিকাদাররা পার্সেন্টিজ দেয় না । বা দিলেও দলীয় কারনে চক্ষুলজ্জায় পার্সেন্টেজ নিতে পারেন না । অপরদিকে বিএনপি জামায়াত পন্থী ঠিকাদাররা খুব নম্র ভদ্র হয়ে কথা বলেন, তাঁদের দেওয়া পার্সেন্টেজ নিতেও কোন কুন্ঠাবোধ জাগেনা ।
এবিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা জেলা আ,লীগের সহ- সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম রসুল তালুকদার জানান,নেত্রকোনা সরকারি দপ্তর গুলোতে বিএনপি- জামাতের নেতারা বেশি ঠিকাদারী কাজ করছে আমি শুনেছি,আমি ঠিকাদারী করি না।তিনি আরও বলেন, আ,লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত বিএনপি-জামাত এবং স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বেশি সুবিধা পাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :