পাইকগাছার মাদুর শিল্প বিলুপ্তির পথে

রফিকুল ইসলাম খান, পাইকগাছা, খুলনা

পাইকগাছার ঐতিহ্যবাহী ম্যালির তৈরী মাদুর শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। প্রয়োজনীয় পুজির অভাব, কাচামাল, ও উপকরণের দুস্বপ্রাপ্যতাই মাদুর শিল্প বিলুপ্তির প্রধান কারন হয়ে দাড়িয়েছে। ফলে এ শিল্পের সাথে জড়িত অত্র অঞ্চলের কয়েক শত পরিবার বর্তমানে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এক সময় পাইকগাছার প্রত্যন্তাঞ্চলে বিশেষকরে দেলুটি, সোলাদানা,গড়াইখালী, চাদখালী, লতা, কপিলমুনিসহ আশে-পাশের কয়েকটি ইউনিয়নে মাদুর শিল্পীরা ম্যালির মাদুর তৈরীতে ব্যস্ত থাকতো। কালের বিবর্তনে তারা আজ নানামুখি সমস্যার কারনে বর্তমানে এলাকার প্রয়োজনীয় চাহিদা পুরনেই ব্যর্থ হচ্ছে। মাদুর শিল্পিরা জানায়, মাদুর বুনতে ম্যালির দরকার হয়। বর্তমানে এর চাষ কমে আসছে। দুথএকজন এর চাষ করলেও অনেক বেশি দামে তা কিনতে হচ্ছে। মাদুর বানাতে যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে সে পরিমান টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকজন মাদুর শিল্পী এ প্রতিবেদককে জানান, ব্যাপকভাবে এলাকায় লোনা পানির চিংড়ী চাষ হওয়ার ফলে ম্যালি উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে অধিকাংশ ম্যালি উৎপাদন হতো জোয়ার-ভাটার নদীর উপকূলীয় পলি অঞ্চল দিয়ে ।

বর্তমানে এ সব এলাকায় ভেড়িবাধ দিয়ে ঘের করা হয়েছে। ফলে ক্রমশ;ম্যালি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। আর এ ম্যালির অভাবে মাদুর শিল্পীদের দুরাবস্থা চরমে পৌছেছে। তবে নিজ জমিতে ম্যালি চাষ করে এখনও অনেক পরিবার এ পেশায় নিয়জিত আছে। অনেকে আবার নিঃস্ব হচ্ছে। বেশ কিছু মাদুর শিল্পীর সাথে আলাপকালে জানা যায়,মাদুর শিল্প এখন পর্যাক্রমে বিলুপ্ত হওয়ার সম্মুখীন। কারন পর্যাপ্ত ম্যালি এলাকায় উৎপাদন না হওয়ায় মাদুর শিল্পীরা হাত-পা গুটিয়ে নিয়েছে। হয়তো এভাবেই একটি যুগ পার হতে না হতেই মাদুর শিল্প বিলুপ্ত হবে। সরকার নির্বিকার মাদুর শিল্পীদের কোন ঋণ দিচ্ছে না। যাতে দুস্থ পরিবারের শিল্পীরা পুনরায় মাদুর তৈরির উৎসাহ ফিরিয়ে আনতে পারে। ম্যালির তৈরী মাদুর বিক্রেতা কপিলমুনির সুকুমার জানান, ম্যালির দাম বেশী হওয়ায় মাদুরের দাম বেড়েছে। ফলে মানুষ বিকল্প জিনিস খুজছে।

আগের মত আর ম্যালির তৈরী মাদুর বিক্রয় হয়ন । ফলে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন মাদুর ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে,একটা মাদুর বুনতে তাদের খরচ হয় ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা আর সময় লাগে ১ থেকে ২ দিন । কিন্তু একটি মাদুর বিক্রি করে ৫০ থেকে ৬০ টাকার বেশি লাভ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বুনন শিল্পিরা হতাশ হচ্ছে। তারা বলেন, পরিবারের সবাই মিলে বুননের কাজ করার ফলে কোন রকম তাদের সংসার চলে! বেশির ভাগ মানুষই তাদের পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্যা পেশায় চলে যাচ্ছে। মাদুর বুনে ছেলে মেয়েদের পড়াশনার খরচসহ তাদেরকে অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতে হচ্ছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :